- প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬ ০৯:২১ এএম
বিএনপি নেতা পরিচয়ে,দলের নাম ভাঙ্গিয়ে,অন্যায় ভাবে দলের প্রভাব বিস্তার করে আলমগীর মুন্সির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী পরিবারকে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ
‘মেরে ফেলার হুমকি, নারীদের ইজ্জতহানির চেষ্টা’—নিরাপত্তা চেয়ে ব্যবসায়ী রিপনের পরিবারের সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা:
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ফুলকাচিয়া গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য,ভূমিদস্য, আলমগীর মুন্সির বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা পরিচয়ে,দলের নাম ভাঙ্গিয়ে,অন্যায় ভাবে প্রভাব বিস্তার করে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা, হামলা, মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি, প্রাণনাশের হুমকি ও নারী সদস্যদের ইজ্জতহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ থেকে পরিত্রাণ ও নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী রিপনের পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শারমিন আক্তার, ফরিদা, রহিমা বিবি, জেসমিন, ইব্রাহিম মুন্সী, মোকলেস মুন্সী, গোলাম রহমান ও আমির মুন্সীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা অভিযোগ করেন, ২০২২ ও ২০২৩ সালে নান্টু মিয়া ওরফে নান্নু মিয়া, আমেনা বেগমসহ তিন ব্যক্তির কাছ থেকে বৈধভাবে জমি ক্রয় করেন ঢাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী রিপন। জমি কেনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার ওই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০২৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন এবং নিজের নামে দলিল থাকার দাবি করেন। পরে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কথিত দলিলটি জাল বলে তারা জানতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ হলে আলমগীর মুন্সী নিজের ভুল স্বীকার করে জমি তাদের বুঝিয়ে দেন বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের অভিযোগ, এরপরও বিরোধের অবসান হয়নি। ২০২৪ সালে পুনরায় জমি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে আলমগীর মুন্সী ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালে আবারও রিপন ও তার পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তারা। ওই ঘটনায় আমির মুন্সী গুরুতর আহত হন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পর তাদের ওপর আরও হয়রানি ও নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে সালিশ বৈঠক বসলে আলমগীর মুন্সী ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের অত্যাচার করবেন না—এমন আশ্বাস দিয়ে মামলা তুলে নিতে বলেন। তার আশ্বাসে তারা মামলা প্রত্যাহার করেন বলে জানান।
কিন্তু মামলা প্রত্যাহারের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি—বরং নতুন করে বিপদের মুখে পড়েছে পরিবারটি, এমন অভিযোগ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০২৬ সালে তাদের ওপর হামলার পর উল্টো ভোলা আদালতে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন আলমগীর মুন্সী। ওই মামলায় ঢাকার স্বনামধন্য ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী রিপনসহ আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
পরিবারটির আরও অভিযোগ, রাতের আঁধারে মাদকাসক্ত যুবক, সন্ত্রাসী ও সহযোগীদের নিয়ে তাদের বাড়ির আশপাশে এসে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নারী সদস্যদের ইজ্জতহানির চেষ্টারও অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের ওপর হামলা ও অত্যাচার করা হচ্ছে, আবার উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া হচ্ছে। মামলা দিয়ে পুলিশি হয়রানি করা হচ্ছে। সন্ত্রাসী ক্যাডারদের মাধ্যমে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা আর কতদিন এভাবে আতঙ্কের মধ্যে থাকব? আমরা আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই, আমরা বাঁচতে চাই।”
তারা আরও বলেন, “আমরা ১৯৯৬ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমরা নির্যাতিত হয়েছি। আলমগীর মুন্সী তখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ছিলেন। এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার ও হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।”
ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।
এ সময় ভুক্তভোগী পরিবার ভোলা-২ আসনের এমপি আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিমের হস্তক্ষেপ কামনা করে আলমগীর মুন্সীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রশাসনের কাছে তাদের ও পরিবারের নারী-শিশুসহ সব সদস্যের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তারা।
এই বিভাগের আরো খবর
-
বরিশালে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি ইউনিটের নিয়মিত মাসিক আড্ডা ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা...
-
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গবেষণা, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হলো দুই...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!