শিরোনামঃ

“জীবীত অবস্থায় আব্বার দোয়া নেয়াটা আমার ভাগ্যে আর হলো না”



নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : “আজ ১৬ মাস আমি আমার আব্বার আদর স্নেহ থেকে বঞ্চিত। আমি জেলের ভিতর বসেই আল্লাহ কাছে চেয়েছিলাম আমি যেন জীবীত অবস্থায় যেন আব্বার দোয়াটা নিতে পারি, কিন্তু ভাগ্যে আমার তা আর হলো না। আজকে তার মৃত মুখটাই আমার দেখতে হলো।”


বাবার মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অংশ নিয়ে এমনই বলছিলেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র কামাল হোসেন শেখ।


শনিবার (০৮ আগষ্ট) রাতে ৮ ঘন্টার জন্য মুক্তি পেয়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কাশিমপুর কারাগার থেকে কোটালীপাড়ায় এসে হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার জানাজায় অংশ নেন তিনি।


জানাগেছে, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র কামাল হোসেন শেখের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমান (৯৭) শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কোটালীপাড়া পৌরসভার নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।


এরপর বাবার জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে কামাল হোসেন শেখকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। পরে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে আট ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়। শনিবার সন্ধ্যায় কড়া নিরাপত্তায় পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে কাশিমপুর কারাগার থেকে কামাল হোসেন শেখকে কোটালীপাড়ায় আনা হয়। রাত ১১টার দিকে কোটালীপাড়া পৌর ভবনের মাঠে তাকে আনা হয়। এরপর প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে বাবার মরদেহ দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এ সময় স্বজনদেরও কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। কোটালীপাড়া পৌর ভবনের মাঠে অনুষ্ঠিত তাঁর পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমানের দ্বিতীয় জানাজায় অংশ নেন তিনি। স্বল্প সময়ের জন্য মুক্তি পেলেও বাবার শেষ বিদায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কামাল হোসেন শেখ। জানাজা শেষে রাতেই তাকে পুনরায় কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।


শেখ লুৎফর রহমান কোটালীপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি কোটালীপাড়া শাহানা রশিদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তিনি।


এর আগে, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমানের মৃত্যুতে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।


পরে শনিবার বাদ আসর কোটালীপাড়া পৌর ঈদগাহ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পৌর ভবন মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পঞ্চপল্লী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দুই দফা জানাজায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


জানাজায় অংশ নিয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র কামাল হোসেন শেখ বলেন, আজ থেকে ১০ বছর আগে আমার মা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। আজ বাবাকে হারিয়ে আমরা চারটি ভাই ও চারটি বোন এতিম হয়ে গেলাম। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, আজকে আমার বাবা মারা যাবে আমি তার পাশে থাকবো। ১৯৭১ সালে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। এই দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তার যে ভূমিকা ছিল আপনারা সবাই জানেন।


তিনি আরো বলেন, আজ ১৬ মাস আমি আমার বাবার আদর স্নেহ থেকে বঞ্চিত। আমি জেলের ভিতর বসেই আল্লাহ কাছে দোয়া করেছিলাম আমি যেন জীবীত অবস্থায় আব্বার দোয়াটা নিতে পারি, কিন্তু ভগ্যে আমার তা আর হলো না। আজকে তার মৃত মুখটাই আমার দেখতে হলো। তাই আপনাদের কাছে আমার দাবী আমার বাবার উপর রাগ রাখবেন না। সবাই আমা বাবাকে মাফ করে দিবেন।


কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ বলেন, “সাবেক পৌর মেয়র কামাল হোসেন শেখের বিরুদ্ধে ঢাকা ও গোপালগঞ্জে মামলা রয়েছে। তিনি বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। তাঁর পিতার মৃত্যুর কারণে তাকে আট ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি কোটালীপাড়ায় এসে পিতার জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে তাকে পুনরায় কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।” #

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?