ভোটের দোরগোড়ায় বরিশাল: আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বরিশালের ৬ আসনে কে জিতবে?



সাকিব উল হক,

বরিশাল প্রতিনিধি। 


দুয়ারে কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সবার কাঙ্খিত ভোটের বাকি আর মাত্র একদিন। শেষ মুহূর্তে বরিশালের ছয়টি আসনজুড়ে বইছে ভোটের উত্তাপ। এক প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো, বিদ্রোহী প্রার্থীর চাপ, জোট বদল ও দলীয় নেতাকর্মীদের অবস্থান পরিবর্তনে প্রতিটি আসনেই তৈরি হয়েছে অনিশ্চিত সমীকরণ। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবার বরিশালের রাজনীতি ঘুরছে মূলত ধানের শীষ, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের ঘিরে।


এই নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি আসনে মোট ৩৬ জন প্রার্থী অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও রোববার একজন প্রার্থী সরে দাঁড়ান। বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে জাসদ মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত ‘মোটরগাড়ি’ প্রতীকের আবুল কালাম আজাদ শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। ফলে এখন বরিশালের ছয়টি আসনে ৩৫ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে থাকছেন।


বরিশাল-১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) মোট ৩ লাখ ২৮ হাজার ১৯৮ ভোটারের আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে জামায়াতের মো. কামরুল ইসলাম খানের তুমুল লড়াইয়ের আভাস মিলছে। তবে বিএনপির ভেতরের বিদ্রোহী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সোবাহান ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে থাকায় স্বপনের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। এতে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। জানা গেছে, বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনকে সংস্কারপন্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সোবাহান। তিনি বলেন, ‘হিন্দুদের রক্ষার জন্য প্রার্থী হয়েছি। ফলে কিছুটা হলেও অনুমান করা যায়, ধানের শীষের প্রার্থীকে কতটা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে হচ্ছে।

বরিশাল-২(বানারীপাড়া-উজিরপুর)  আসনে মোট ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৭ ভোটারের আসনে আগে ৮ জন প্রার্থী থাকলেও এখন মাঠে রয়েছেন ৭ জন। এখানে মূল লড়াই ধানের শীষের প্রার্থী সরদার শরফুদ্দিন সান্টু  ও জামায়াতের আব্দুল মান্নানের মধ্যে। সম্প্রতি বিএনপির কয়েকজন স্থানীয় নেতা জামায়াতে যোগ দেওয়ায় ধানের শীষের প্রার্থী বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে মত ভোটারদের।

বরিশাল-৩(মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আড়িয়াল খাঁ নদী তীরের এই  আসনে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৯৭ ভোটারের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের গোলাম কিবরিয়া টিপু। তিনবারের সাবেক এমপি টিপু কারাবন্দী থেকেও নির্বাচন করছেন। তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছেন তারই মেয়ে। এ আসনেও দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে ২,১৭,৯৪২ জন পুরুষ এবং ২,০৪,০৩০ নারী ভোটার ও ৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সহ মোট  ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৭৫ ভোটার রয়েছেন। এখানে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও ধানের শীষের প্রার্থী রাজিব আহসানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল জব্বার। জামায়াত নেতৃত্বের জোরালো প্রচারণায় এ আসনে তাদের জয়ের সম্ভাবনা দেখছে দলটি। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনবার এমপি ছিলেন পঙ্কজ দেবনাথ। সরকার পতনের পর তার অনুপস্থিতিতে বিএনপির ওপর চাপ বেড়েছে।

কীর্তনখোলা পাড়ের জনপদের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন বরিশাল-৫ আসনটি সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। বরিশাল-৫ আসনে মোট পাঁচ লক্ষ এক হাজার তিনশ চার জন ভোটার রয়েছেন। যার মধ্যে ২,৫০,৬৮০ জন পুরুষ, নারী ভোটার ২,৫০,৬১৫ জন এবং ৯ জন রয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। এই আসনে জামায়াত প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর পর ধানের শীষের অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার তুলনামূলকভাবে এগিয়ে। হাতপাখার প্রার্থী মুফতি মুহাম্মাদ ফয়জুল করিম আলোচনায় থাকলেও শক্ত জনসমর্থনের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন ভোটাররা। এ আসনে আলোচিত বাসদ নেত্রী মনীষা চক্রবর্তীও আলোচনায় আছেন।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৬ আসনে ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ ভোটার রয়েছেন। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধানের শীষের আবুল হোসেন ও হাতপাখার ফয়জুল করিমের মধ্যে। আছে জামায়াতের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবীও। তবে হাতপাখার প্রার্থী আওয়ামী লীগের ভোটারদের টানতে কৌশলী ভূমিকা রাখছেন বলেও আলোচনা রয়েছে। 


বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালের ৬ আসনের মধ্যে ৫টিতেই ধানের শীষ, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে ত্রিমুখী ভোটযুদ্ধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। শুধু বরিশাল-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী তুলনামূলকভাবে স্বস্তিতে রয়েছেন।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বরিশালের মানুষ কোন আসনে কাকে বেছে নেন—সেই দিকেই এখন সবার দৃষ্টি।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?