বেতাগী : দুর্ভোগের শেষ নেই ১২ গ্রামের মানুষের

বেতাগী হোসনাবাদ ইউপিসি সড়ক

বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের আরআইসি সড়ক ও কাজীরহাট ডিসি সংযোগ সড়কটি যুগের পর যুগ সংস্কার না হওয়ায় এখন এলাকাবাসীর দুঃখের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত সড়কটির দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করছেন অন্তত ১২ গ্রামের হাজারো মানুষ।


স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটির বিভিন্ন অংশে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। কোথাও কাদা, কোথাও গভীর গর্ত—সব মিলিয়ে সড়কটি এখন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের নিয়ে বের হওয়া যেন এক দুঃস্বপ্ন।


এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল দুটি বড় বাজার, একাধিক সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদরাসা এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজ এলাকা। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী কাদা-পানির মধ্যে দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে নষ্ট হয়ে যায়।


হোসনাবাদ এলাকার এক অভিভাবক বলেন, “বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। রাস্তায় পড়ে গেলে বড় দুর্ঘটনা হতে পারে। তবুও উপায় নেই।”


সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা। ১২ গ্রামের কৃষকদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য এই সড়ক দিয়েই বাজারে নিতে হয়। সড়ক ও পুলের বেহাল দশার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হচ্ছে।


স্থানীয় কৃষক আবদুস সালাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ফসল ফলাই কষ্ট করে, কিন্তু রাস্তায় আনতে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। এই রাস্তা আমাদের জীবিকা নষ্ট করে দিচ্ছে।”


এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের সময় এই সড়ক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর খোঁজ নেন না। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কের পাশে থাকা পুলটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।


সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জাহিদুল ইসলাম জলিল আকন বলেন, দ্রুত এই সড়ক ও পুলটি পুনর্র্নিমাণ করে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগ ঘুরে ফিরে আসবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।



এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?