নেতাজির শেষ সফর বরিশালে

সুশান্ত ঘোষ,

নেতাজির ১২৩ তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি 
১৯৪০ সালের মে মাসে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু বরিশাল অঞ্চলে সফর করেন।  একই সাথে তিনি ২০ মে  ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ মাদারিপুর সফর করেন।এটাই ছিল নেতাজির সর্বশেষ পাবলিক মিটিং ও সফর। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মহা নিষ্ক্রমণ ঘটে ১৬ জানুয়ারি ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে।
এই দিনে তিনি কলকাতার এলগিন রোডের বাড়ি থেকে গোপনে বেরিয়ে ব্রিটিশ নজরদারি এড়িয়ে দেশত্যাগের পথে যাত্রা শুরু করেন।
বরিশালে এসে তিনি কালিবাড়ি রোডে তৎকালীন বিশিষ্ট আইনজীবী আমার পিসি মীরা বসু রায়  এর শ্বশুর আইনজীবী রোহিণী বসু রায়ের বাড়িতে অবস্থান করেন।এক সময় রোহিনী কুমার বসু রায়ের বাসভবন। জনতা ব্যাংকের অধীনে যা এখন খান মঞ্জিল নামে পরিচিত। 

তিনি  বর্তমান জীবনানন্দ দাশ সড়ক (অক্সফোর্ড মিশন রোড) " সুধীর মেমোরিয়াল ও রিডিং রুম"পরিদর্শন করেন।   এখানে অবস্থানের কারণ হিসাবে আমার পিসি মিরা বসু রায় জানান "আমার শশুর মশাই রোহিনী কুমার বসু  রায় ছিলেন বরিশালে বিশিষ্ট আইনজীবী -এই বাড়ীর সাথে নেতাজীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল, এছাড়া আমার কাকা বিপ্লবী দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ ছিলেন, বরিশাল সফরের অন্যতম উদ্যোক্তা। সে সময় এই বাড়িতে, টয়লেট ব্যবস্থাটা বেশ আধুনিক ছিল -এছাড়া, তৎকালীন সময়ে এটা একটি আধুনিক বাসস্থান ছিল -সেসবের কারণে,  নেতাজিকে এই বাসায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়।  এই বাড়ীর সামনের ছবিতে নেতাজির পাশেই দেখা যায় আমার শশুর রোহিণী কুমার  বসু রায়।নগরীর কালীবাড়ি রোডে বিখ্যাত আইনজীবী রোহিণী কুমার বসু রায়ের বাড়ি, যেখানে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ১৯৪০ সালের, মে মাসে অবস্থান করেন। নেতাজির পিছনে দাঁড়ানোর টুপিওয়ালা দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ।

''বরিশালের নেতাজির সফরের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রধান ছিলেন বিপ্লবী দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি জীবদ্দশায় স্মৃতিচারণ করেছিলেন এভাবে "স্টিমার   ঘাট থেকে, স্বেচ্ছাসেবকাহিনী, ঘোড়ায় চড়ে গার্ড অব অনার দিয়ে সারা শহর ঘুরিয়ে নেতাজি কে বরিশালের স্বাগত জানায় -এরপর তিনি শংকর মঠ সহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন ''সময় তিনি বারবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন "
কংগ্রেস আপোষ করবে -এই আপোষের বিরুদ্ধে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। পরবর্তীতে রামগড় কংগ্রেস -পরিণত হয়ে আপস বিরোধী সম্মেলনে "
ঝালকাঠিতে নেতাজি কে দোকানের মিষ্টি খাওয়ান,ঝালকাঠি  নগরের বিখ্যাত নগেন সুইটসের মালিক, নগেন্দ্রনাথ ঘোষ। বর্তমানে এই দোকানের কর্ণধার শুভ ঘোষ এর তথ্য নিশ্চিত করেন।

নেতাজি বরিশালে এসে বসবাসের স্থানটি বর্তমানে খান ভিলা যা  জনতা ব্যাংকের অধীন   বলে জানা গেছে। নেতাজির স্মৃতির স্মৃতিচিহ্নর এই স্থানটি, সংরক্ষণ করা জরুরী বলে জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। 
বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাংবাদিক, মানবেন্দ্র বটব্যাল জানান, বরিশালে সুভাষচন্দ্র বসুর আগমন একটি স্মরণীয় ঘটনা। তার বাসস্থান এবং স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা হলে তা আগামী দিনের জন্য  উত্তর প্রজন্মের একটি স্মারক বলে গণ্য হতে পারে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?