পটুয়াখালী-৩ এ বদলে যাওয়া সমীকরণ, হাসান মামুনকে ঘিরে আওয়ামী ভোটের হিসাব


সঞ্জিব দাস, গলাচিপা,  পটুয়াখালী, প্রতিনিধি 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে দেখা দিয়েছে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক সমীকরণ। দীর্ঘ প্রায় ৪৬ বছর ধরে আসনটি আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী না থাকায় ভোটের হিসাব-নিকাশে এসেছে বড় পরিবর্তন।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ আসনে ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগপন্থী ভোটই জয়-পরাজয়ের মূল নির্ধারক। কিন্তু দলীয় প্রতীক অনুপস্থিত থাকায় সেই ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়েই এখন চলছে ব্যাপক আলোচনা। স্থানীয় নেতৃত্বের ভেতরের বিভাজন ও বাস্তবমুখী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে আওয়ামী ঘরানার একটি অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের দিকে ঝুঁকছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। সাম্প্রতিক সময়ে তার জনসভা ও পথসভায় উল্লেখযোগ্য জনসমাগম দেখা গেছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগপন্থী নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফলে ভোটের মাঠে তাকে ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।


স্থানীয় ভোটারদের একাংশের ভাষ্য, দলীয় প্রার্থী না থাকায় তারা এবার ব্যক্তি ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন। এতে করে হাসান মামুনের অবস্থান আরও শক্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


অন্যদিকে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী নুরুল হক নুর প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি আবু বক্কর সিদ্দিকও ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে মাঠে কাজ করছেন। সম্ভাব্য ভোট বিভাজন এই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও ঘনিষ্ঠ ও অনিশ্চিত করে তুলেছে।


এ আসনে সংখ্যালঘু ভোটারদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তারা সাধারণত স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে ভোট প্রদান করেন। বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত ভোটের পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোটের একটি বড় অংশ যে প্রার্থীর দিকে যাবে, তার জয় সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।


সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনে নির্বাচনী লড়াই এখন বহুমাত্রিক ও টানটান উত্তেজনাপূর্ণ। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত ভোট কোন প্রার্থীর ঝুলিতে যায়, সেটিই নির্ধারণ করবে চূড়ান্ত ফলাফল।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?