- প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬ ০৮:০৫ পিএম
ভিকটিমের মায়ের সংবাদ সম্মেলন: জড়িতদের গ্রেপ্তার ও মেয়েকে উদ্ধারের দাবি
স্টাফ রিপোর্টার:
আদালতের আদেশে নিজের জিম্মায় ফিরে পাওয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রের মুখে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ভিকটিমের মা-বাবাকে মারধর করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও পাসপোর্টসহ মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আজ বরগুনার বামনা উপজেলার পূর্ব সফিপুর গ্রামের বাসিন্দা মোসাঃ সুলি আক্তার (৪৮) এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, অপহৃত কন্যাকে নিরাপদে উদ্ধার এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুলি আক্তার জানান, তিনি ও তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর দুই বছর আগে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসেন। তাঁদের অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যা ফারহানা আক্তার সুমাইয়াকে (১৪) প্রায় তিন মাস আগে অভিযুক্ত শাহারিয়ার রাফি (১৮) প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে। এ ঘটনায় বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হলে আদালতের নির্দেশে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ভিকটিমকে উদ্ধার করে আদালতে উপস্থাপন করে। সুমাইয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালত প্রথমে তাকে নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে (সেফ হোম) পাঠান। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে আদালত মেয়েকে মায়ের জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ওইদিন আদালত থেকে মেয়েকে নিয়ে সিএনজি অটোরিকশাযোগে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হন তাঁরা। দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাটামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-বরগুনা মহাসড়কে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের চলন্ত সিএনজির গতিরোধ করে।
ভুক্তভোগী মায়ের দাবি, মূল অভিযুক্ত শাহারিয়ার রাফি, আমজেদ আলী খান, শামীম খান, রুমি বেগম, রুহুল আমীনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২-১৩ জন সন্ত্রাসী তাঁদের ওপর হামলা চালায়। মেয়েকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে মা সুলি আক্তার বাধা দেন। এ সময় তাঁকে সিএনজি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে আঘাত করে জখম করা হয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা কিশোরী সুমাইয়াকে জোরপূর্বক একটি মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয়। এ সময় বাধা দেওয়ায় সুমাইয়ার পিতা হানিফ মোল্লাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সুলি আক্তার অভিযোগ করেন, অপহরণের পাশাপাশি সন্ত্রাসীরা তাঁর সাথে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। ওই ব্যাগে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের ৯টি পাসপোর্ট, নগদ ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, আনুমানিক ১৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি রেডমি মোবাইল ফোন ছিল।
আদালতের আদেশ অমান্য করে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন দুর্ধর্ষ অপহরণের ঘটনায় পুরো পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে উল্লেখ করে সুলি আক্তার বলেন, "আদালতের জিম্মা থেকে প্রকাশ্যে সন্তানকে পুনরায় অপহরণ করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপ।"
তিনি অপহৃত কন্যাকে দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধার, ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধারসহ ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এই বিভাগের আরো খবর
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চরলতা এলাকায় সরকারি খাসজমি ও খাস খাল দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!