শিরোনামঃ

বরিশালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পুরস্কার বিতরণ উৎসব, ২ হাজার ৭৭৬ শিক্ষার্থীকে সম্মাননা

আলোকিত প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে এবং গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় বরিশালে বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত দিনব্যাপী এ উৎসবে মহানগরীর ৩৫টি বিদ্যালয়ের ২ হাজার ৭৭৬ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ওবায়দুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. আবদুন নূর তুষার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পাঠচক্রের সমন্বয়কারী ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার বাহাউদ্দিন গোলাপ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন, এভারেস্ট বিজয়ী পর্বতারোহী এম এ মুহিত, জেলা শিক্ষা অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার, বরিশাল পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট শিরীন শবনম, বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবা হোসেন, গ্রামীণফোনের বরিশাল অঞ্চলের রিজিওনাল হেড মো. শাহিনুর রহমান, করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের স্ট্র্যাটেজিক প্রোগ্রাম লিড মো. সোহেল রানা এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে অতিথিরা বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন।

ডা. আবদুন নূর তুষার বলেন, বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ নতুন দেশ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। ভালো বই মানুষের জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি বিস্তৃত করে এবং সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগায়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তোলার এটি উপযুক্ত সময়। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান ও মূল্যবোধ বিকাশে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাহাউদ্দিন গোলাপ বলেন, আগামী দিনের সমৃদ্ধ জাতি গঠনে আলোকিত মানুষ হয়ে ওঠার বিকল্প নেই, আর সে জন্য নিয়মিত বই পড়া প্রয়োজন। উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, চরিত্র গঠন, মূল্যবোধের বিকাশ এবং জ্ঞান-প্রজ্ঞায় সমৃদ্ধ হতে ভালো বই পড়ার বিকল্প নেই।

এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী এম এ মুহিত বলেন, প্রত্যেক মানুষের ভেতরেই একটি করে ‘এভারেস্ট’ বা স্বপ্ন রয়েছে। দৃঢ় সংকল্প ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন জয় করা সম্ভব।

গ্রামীণফোনের রিজিওনাল হেড মো. শাহিনুর রহমান বলেন, আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তুলতে গত দুই দশক ধরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এ উদ্যোগের সঙ্গে গ্রামীণফোন যুক্ত রয়েছে। তিনি বই পড়ার পাশাপাশি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

স্বাগত বক্তব্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান বইপড়া কর্মসূচি সফল করতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের ধন্যবাদ জানান এবং আগামীতে আরও বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

আয়োজকরা জানান, এ বছর ৩৫টি বিদ্যালয়ের মোট ২ হাজার ৭৭৬ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৭ জন 'শুভেচ্ছা', ৬৯০ জন 'অভিনন্দন' এবং ৪৯ জন 'সেরা পাঠক' ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পেয়েছে।

এবার প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য 'অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস' শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়েছে। এছাড়া অনুষ্ঠানস্থলে 'অনলাইন সেফটি কর্নার'-এ অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে তথ্য প্রদান করা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনের পুরস্কারের বই স্পন্সর করেছে গ্রামীণফোন লিমিটেড।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?