শিরোনামঃ

রাজাপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা, নৃশংস মারধর ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ


ভোলা প্রতিনিধি :

ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে তিন সন্তানের এক জননীকে ধর্ষণের চেষ্টা, নৃশংস মারধর এবং স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে উপজেলার ১ নম্বর রাজাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৈয়বাখাতুন স্কুলসংলগ্ন একটি ঘের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আলহাজ্ব মো. হোসেন হাওলাদার একই এলাকার হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী লাইজু বেগম (৩২) জানান, সকালে বাবার বাড়িতে যাওয়ার পর পাশের ঘেরে গেলে তিনি দেখতে পান অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের জমি থেকে কলার ছড়া কাটছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত তাকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে মুখ চেপে ধরে বাগানের দিকে টেনে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তিনি বাধা দিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তার চোখ, কপাল, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় তার হাত ও আঙুলে কামড় দেওয়া হয়, পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং কানের দুল, নাকের নথ ও গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।

পরে তার মা ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে ইলিশা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে পাঠান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি কলার ছড়া, গামছা, ছাতা, জুতা এবং ভুক্তভোগীর ছেঁড়া ওড়না আলামত হিসেবে জব্দ করেছে।

ভুক্তভোগীর ভাই মনির হোসেন ও ভগ্নিপতি আব্দুর রহমান বলেন, একজন তিন সন্তানের মায়ের ওপর এমন নির্মম নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় তারা মর্মাহত। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান।

তবে অভিযুক্ত আলহাজ্ব মো. হোসেন হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, জমির সীমানা নির্ধারণের কাজ করার সময় লাইজু বেগম তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাকে মারধর করেন। আত্মরক্ষার্থেই তিনি কামড় দিয়েছেন বলে দাবি করেন। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেও উল্লেখ করেন।

ইলিশা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বশির আহম্মেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং বেশ কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?