পুলিশ-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষ

গোপালগঞ্জে আদালতের নির্দেশে গোপালগঞ্জে নিহত ৩ জনের লাশ উত্তোলন, পাঠানো হয়েছে হাসপাতাল মর্গে হয়রানী না করার আহবান বিএনপির, ফিরসে স্বাভাবিক অবস্থায়







স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে এনসিপির পথসভাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ৫ জনের মধ্যে তিনজনের লাশ আদালতের নির্দেশে কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। পরে তা পাঠানো হয় গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে। এদিকে মামলায় সাধারন নিরীহ মানুষকে হয়রানী না করার আহবান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা বিএনপি।


গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মির মো: সাজেদুর রহমান জানান, গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ হয়। এসময় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংঘর্ষ থামাতে গুলি বর্ষণ করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৫ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর থানায় ৪টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয। মামলা বাদীগণ আদালতে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলনের আবেদন করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নিহত রমজান কাজী, ইমন তালুকদার ও সোহেল রানার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।


তিনি আরো বলেন, এরই প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুর ১টার দিকে ম্যাজিষ্ট্রেট রাসেল মুন্সি ও রন্টি পোদ্দারের উপস্থিততে গোপালগঞ্জ পৌর কবরস্থান থেকে রমজান কাজী ও ইমন তালুকদার এবং টুঙ্গিপাড়ায় ম্যাজিষ্ট্রেট মারুফ দাস্তগীরের উপস্থিততে পারিবারিক কবরস্থান থেকে সোহেল রানা মোল্যার মরদেহ উত্তোলন করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। লাশ উত্তোলনের সময় নিহতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


তিনি আরো বলেন, এর আগে শনিবার রাতে, সদর থানার চার উপপরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় চারটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনটি মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ জনকে ও একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ৯০০ জনকে।


গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আইয়ুব হোসেন বাদী হয়ে রমজান কাজী নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আসামী করা হয়েছে থেকে ৯০০ জনকে।


মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন, গত বুধবার (১৬ জুলাই) এনসিপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে পৌর পার্ক থেকে দুপুরে মাদারীপুরের উদ্দেশে  গাড়িবহর নিয়ে রওনা দিয়ে নেতৃবৃন্দ গোপালগঞ্জ শহরের এসকে সালেহিয়া মাদ্রাসার কাছে পৌঁছালে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দুষ্কৃতকারীরা গাড়ি বহরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা করে। পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এতে বাধা দেয়। হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর গুলি চালায়। এ সময় রমজান কাজী (১৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


দীপ্ত সাহা (২৭) নিহতের ঘটনায় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামীম হোসেন বাদী হয়ে ১৯ জুলাই গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা ১ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।


মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন, গত বুধবার (১৬ জুলাই) এনসিপির গাড়ি বহরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং দুষ্কৃতকারীদের হামলার ঘটনা শহরে ছড়িয়ে পড়ে। কলেজ মসজিদের পাশে মিলন ফার্মেসির সামনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এটি প্রতিরোধ করতে গেলে হামলাকারীরা গুলি করে। সেখানে দীপ্ত সাহা গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। সংকটজনক অবস্থায় তাকে গোপালগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


মোবাইল ব্যবসায়ী সোহেল রানা মোল্লা নিহতের ঘটনায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন একই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ। আসামী করা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ জন।


মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন, লঞ্চঘাট এলাকায় হোটেল রাজের সামনে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও দুষ্কৃতকারীরা এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী এগিয়ে এলে তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় তারা। এ সময় সোহেল রানা মোল্লা (৩০) মারাত্মক আহত হন। তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


অপরদিকে সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ১ হাজার ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ইমন তালুকদার হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।


মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন, ঘটনার দিন গত ১৬ জুলাই আসামিরা শহরের পুরাতন সোনালী ব্যাংকের সামনে এনসিপির গাড়ি বহরে হামলা করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এতে বাধা দিলে দুষ্কৃতকারী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ইমন তালুকদার আহত হয়। পরে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।


নিহত অপর দুইজনের মধ্যে দীপ্ত সাহার মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় মতে পৌর শ্মশানে সৎকার ও রমজান মুন্সীর মরদেহের ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন করা হয়।


নিহত ইমন তালুকরের মামাতো ভাই বাবু ভূইয়া ও রামজান কাজীর মামা রানা কাজী বলেন, মামলা বিষয়ে তাদের কিছু না জানালেও পুলিশের মাধ্যমে খবর দেয়া হয় লাশ উত্তোলন করা হবে। এ  বেশি কিছু জানানো হয়নি। পরে আজ দুপুরে লাশ উত্তোলন করে। গুলি করে কেন মারা হলো এর বিচারের দাবী জানান তারা।


এদিকে, গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় নিরীহ মানুষকে হয়রানী না করার দাবী জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা বিএনপি। 

আজ সোমবার দুপুরে শহরের বড়বাজার পৌর মার্কেটে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলণে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা বিএনপির আহবায়ক শরীফ রফিকুজ্জামান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্প্রতি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী মধ্যে সংঘর্ষে জনমনে ভীতির সঞ্চার করে। এসময় বিএনপির বেশ কয়েকটি তোড়ন ভাংচুর করা হয়। এসব ঘটনায় কয়েকটি মামলা হয়েছে। এসময় মামলায় যেন কোন নিরীহ মানুষকে হয়রানী করা না হয় তার দাবী জানান।


এ সংবাদ সম্মেলন

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?