শিরোনামঃ

সন্তানের অবহেলা ও নির্যাতনে ৯৭ বছরের বৃদ্ধের শেষ ভরসা ভিক্ষা, বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ



নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ৯৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ পিতার ভরণপোষণ না দেওয়া এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আইনি প্রতিকার চেয়ে টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই পিতা।


ভুক্তভোগী ওই পিতা হলেন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম (৯৭)।


অভিযোগে ওই ভুক্তভোগী পিতা জানান, উপজেলার গিমাডাঙ্গা পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ আব্দুস সালামের তিন ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। তাঁর ছেলেরা সবাই আয়-রোজগার করলেও কেউ তাঁর ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করেন না। বড় ছেলে অলী বিশ্বাসের প্ররোচনায় অন্য ছেলেরাও তাঁর দেখাশোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ফলে জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে তাঁকে পথে পথে ভিক্ষা করে দিন কাটাতে হচ্ছে। খাবার বা পড়নের কাপড় চাইলে ছেলেরা প্রায়ই তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিক নির্যাতন করে। এমনকি তাঁর ব্যবহৃত কাঁথা-কম্বলেও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।


অভিযোগে তিনি বলেন, বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। তাই সন্তানদের কাছ থেকে আইন অনুযায়ী ভরণপোষণ নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।


স্থানীয়রা জানান, সারাজীবন সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে কঠোর পরিশ্রম করা এই বৃদ্ধ আজ অবহেলা ও অসহায়ত্বের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের মতে, এ ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়; এটি সমাজে বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই ভুক্তভোগী পিতার বড় ছেলে অলী বিশ্বাস অভিযোগের কিছু অংশের সত্যতা স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, তিন ভাইয়ের মধ্যে মেজো ভাই তাঁদের বাবা-মায়ের কোনো খোঁজখবর নেন না। কেন নেন না, সে বিষয়ে বাবাকে মেঝো ভাইয়ের কাছেই জানতে বলেন তিনি। অলী বিশ্বাসের ভাষ্য, তাঁদের বাবা মেজো ছেলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেন না বা কিছু বলেন না। এ কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।


এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আইয়ুব আলী বলেন, "অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সমাজে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।” #

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?