- প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬ ০৪:৪০ পিএম
কিশোরদের ভার্চুয়াল দুনিয়া, বাস্তবে সহিংসতার বিস্তার
স্টাফ রিপোর্টার: সোশ্যাল মিডিয়ার বিস্তার এবং স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা কিশোর-কিশোরীদের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনেছে। তবে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
একসময় কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগ সীমাবদ্ধ ছিল স্কুল, খেলাধুলা কিংবা পাড়া-মহল্লার আড্ডায়। বর্তমানে সেই জায়গা দখল করেছে ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টিকটক, অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন ভার্চুয়াল কমিউনিটি। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজেই নতুন সদস্য সংগ্রহ, দল গঠন এবং পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করছে বিভিন্ন কিশোর গ্যাং।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে এক হাজারের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, তাদের বড় একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করত। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়া এবং নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার জন্যও এসব মাধ্যম ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রবণতা অনেক কিশোরকে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। লাইক, শেয়ার ও অনুসারী বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় কেউ কেউ সহিংসতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকেও ‘সাহসিকতা’ হিসেবে উপস্থাপন করছে।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, অল্প বয়সে অনিয়ন্ত্রিত স্মার্টফোন ব্যবহার কিশোরদের আচরণ, চিন্তাভাবনা ও সামাজিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে অনেকের মধ্যে আক্রমণাত্মক আচরণ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং পারিবারিক মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শিশু ও কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করেছে। অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশ বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছে। একই সঙ্গে অনেক দেশে স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহার সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রিত ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাই বেশি কার্যকর হতে পারে। কারণ, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতা অর্জন এবং জরুরি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাদের মতে, কিশোরদের নিরাপদ রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, প্রযুক্তি ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল সচেতনতা গড়ে তোলার মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই বিভাগের আরো খবর
-
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সার্বজনীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি)...
-
রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর। শারদীয় দুর্গোৎসবে বিভাগীয় নগরী রংপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রংপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার...
-
যবিপ্রবি প্রতিনিধিবিশ্বের ৩৭টি দেশের কয়েকশত দলকে পেছনে ফেলে জাতিসংঘের গ্লোবাল এআই হ্যাকাথনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের দল ‘zAI BD’। প্রতিযোগিতার লক্ষ্য...
-
নিজস্ব প্রদিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৫ পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে।আজ...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!