শিরোনামঃ

কেশবপুরে ভূয়া আয়কর কর্মকর্তা আটক।




রুস্তম ফারাজী, কেশবপুর।



কেশবপুরে নিজেকে মনিরামপুর আয়কর অফিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে উৎপল কুমার রায় (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন।

গতকাল ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বাঘারপাড়া এলাকার বাসিন্দা উৎপল কুমার রায় কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিকাশ এজেন্টদের দোকানে গিয়ে নিজেকে কর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। পরে আয়কর রিটার্ন, সার্টিফিকেট ও বিভিন্ন কাগজপত্রের তথ্য যাচাইয়ের কথা বলে তাদের কাছ থেকে টাকা দাবি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে কেশবপুর উপজেলার ২ নম্বর সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের কয়েকটি বিকাশ এজেন্টের দোকানে যান। এর মধ্যে সাগরদাঁড়ি বাজারের মো. শরিফুল ইসলামের দোকান থেকে ১ হাজার টাকা, হাসানপুর বাজারের এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং অন্য এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে কেশবপুর এলাকায় প্রায় ৬ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

পরে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। এ সময় ঘটনাস্থলে আনসার সদস্য ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়। কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন, “মানুষকে ভুল বুঝিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা নেওয়া একটি অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য অভিযুক্তকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”

অভিযুক্ত উৎপল কুমার রায় বলেন, “আমি ২০১১ সালে আয়কর অফিসে চাকরি করতাম। দুর্নীতির অভিযোগে আমাকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। আমি প্রায় দুই বছর ধরে এ কাজ করছি। আমার উপরে আরও লোক রয়েছে, তারা আমাকে সহযোগিতা করে।”

ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর কেশবপুরের বিকাশ এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সতর্কতা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?