শিরোনামঃ

কেশবপুরে ২৫ বছর ধরে ভাড়া ছাড়াই আজাদ মার্কেটে ব্যবসার সুযোগ।


রুস্তম ফারাজী, কেশবপুর।


যশোরের কেশবপুরে প্রায় ৪০ শতক জমির ওপর গড়ে ওঠা ‘আজাদ মার্কেট’-এ দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ভাড়া ছাড়াই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকান পরিচালনা করে আসছেন। মার্কেটটিতে বর্তমানে ২৮টি দোকান রয়েছে। জমির মালিক কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আবুল হোসেন আজাদ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সেখানে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দিয়ে আসছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০ শতক জমির ওপর গড়ে ওঠা আজাদ মার্কেটটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মার্কেটের ২৮টি দোকানে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে এসব দোকান থেকে দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে কোনো ধরনের ভাড়া নেওয়া হয়নি। জানা গেছে, জমির মালিক মো. আবুল হোসেন আজাদ দীর্ঘদিন ধরে জমিটি উন্মুক্ত রেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সেখানে দোকান স্থাপন করে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দিয়ে আসছেন। এর ফলে অনেক ব্যবসায়ী কোনো ধরনের মাসিক ভাড়া পরিশোধ ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই মার্কেটকে ঘিরে অনেকের জীবিকা গড়ে উঠেছে। ভাড়া ছাড়াই ব্যবসা করার সুযোগ পাওয়ায় তারা তুলনামূলক কম খরচে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন। একই সঙ্গে মার্কেটটি স্থানীয় ক্রেতাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন সেবা পাওয়ার একটি কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে তারা এখানে ব্যবসা করে আসছেন। জমির মালিকের পক্ষ থেকে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত দোকানভাড়া নেওয়া হয়নি। ফলে এই জায়গায় ব্যবসা করে অনেকেই নিজেদের পরিবার-পরিজনের জীবিকা নির্বাহ করছেন। মো. আবুল হোসেন আজাদ কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপিরও সদস্য। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে তার মালিকানাধীন জমিতে ব্যবসায়ীদের ভাড়া ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচিত।

প্রায় ৪০ শতক জমিতে গড়ে ওঠা আজাদ মার্কেটের ২৮টি দোকানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালিত হলেও জমির মালিকের পক্ষ থেকে ভাড়া না নেওয়ার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ব্যবসার সুযোগ পেয়েছেন, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে মার্কেটের দোকানগুলোতে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাওয়ায় এখানকার অনেক ব্যবসায়ীর সঙ্গে জায়গাটির একটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে মার্কেটটিও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি পরিচিত স্থানে পরিণত হয়েছে।

তবে মার্কেটের বর্তমান অবস্থা, দোকানগুলোর ধরন, ব্যবসায়ীদের সংখ্যা এবং ভবিষ্যতে জায়গাটির ব্যবহার নিয়ে জমির মালিকের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ২৮টি দোকান থেকে ভাড়া না নেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি জমির মালিকের পক্ষ থেকে তাদের ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার ঘটনাটিও এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?