গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা চরম ভোগান্তিতে পৌরবাসী


স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে গোপালগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা। ঘরে ঢুকে পড়েছে পানি, ময়লা পানিতে বাধ্য হয়ে চলাফেরা করছেন শিক্ষার্থী ও সাধারন মানুষ। পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী। পৌর কর্তৃপক্ষ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায়।


পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের পোদ্দারের চর, নিলার মাঠ ও গোবরাসহ বেশ কয়েকটি এলাকার এই চিত্র। এসব এলাকার অধিকাংশ ঘরেই ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির পানি। শতাধিক পরিবার এখন পানিবন্দি। এমন অবস্থা শহরের মডেল স্কুল রোড, বটতলা মোড়, হীরাবাড়ি রোড, বাজার রোড, ডিসি রোডসহ অধিকাংশ পৌর এলাকার। কোথাও কোথাও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা, কোথাও আবার ড্রেন থাকলেও তা ময়লা-আবর্জনায় ভরে থাকায় পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় উল্টো ড্রেনের ময়লা পানিই উঠে আসছে সড়কে। সড়কের পানি কোথাও কোথাও আবার বাড়ি ঘরে প্রবেশ করে বসবাসের অনুপযোগি হয়ে পড়ছে। ফলে রাস্তায় চলাচল তো দূরের কথা, অনেক জায়গায় সড়কের পানি ঢুকে পড়েছে ঘরে, ফলে বাড়ি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।


পৌর এলাকার সড়ক দিয়ে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ পৌর বাসিন্দাদের। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। শুধু বাড়ী ঘরই নয়, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি। জমি তলিয়ে যাওয়া ফসল রক্ষা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন তারা।


গোপালগঞ্জ পৌরসভা বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও পর্যাপ্ত ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। শহর যেমন সম্প্রসারণ হচ্ছে, সেই অনুযায়ী নতুন ড্রেন বা নালা তৈরি করা হয়নি। ফলে পুরনো, সরু ড্রেনে পানি নামতে না পেরে রাস্তায় জমে যায়। এছাড়া ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ফলে বছর বছর একই সমস্যায় পড়ছেন পৌরবাসী।


পৌর এলাকার মানুষের দাবি, ড্রেন সংস্কার ও নতুন ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে টেকসই সমাধান করা হোক। ড্রেনগুলো প্রশস্ত করা, নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং যেসব এলাকায় ড্রেন নেই, সেখানে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্থাপন করলেই এমন দুর্ভোগ অনেকাংশে কমবে। তাদের মতে, পরিকল্পিত শহর গড়তে শুধু রাস্তা বা ভবন নয়, ভালো ড্রেনেজ ব্যবস্থাও অপরিহার্য।


পৌর এলাকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আঃ রহমান চৌধুরী বলেন, কোথাও ড্রেনই নেই, আর যেখানে আছে, তা ময়লা-আবর্জনায় ভরে থাকার কারণে পানির বদলে ড্রেনের নোংরা পানি উল্টো রাস্তায় উঠে আসছে। ফলে রাস্তায় তৈরি হচ্ছে বাজে দুর্গন্ধ ও জীবাণুর ভয়। পৌর কর্তৃপক্ষ সময়মতো ড্রেন পরিষ্কার বা সংস্কার করে না, তাই বৃষ্টির পানি নামতে না পেরে আশপাশের বাড়িঘর ও রাস্তায় জমে যায়।


একই এলাকার হান্নান মোল্লা বলেন, এই জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কোমর পানি ভেঙে স্কুলে যাওয়া যেমন বিপদজনক, তেমনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় ক্ষতি হচ্ছে মালামালের। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও।


জলাবদ্ধতার বিষয়টি স্বীকার করে গোপালগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক বিশ্বজিৎ কুমার পাল বলেছেন, “নিচু এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি নির্মাণের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।” তিনি জানিয়েছেন, পৌর কর্মচারীরা সড়কের পানি নিষ্কাশনের কাজ করছেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?