- প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:১২ পিএম
গলাচিপায় অসহায় বিধবা পিয়ারা বেগম পরিবারের মানবেতর জীবন — ভাঙা ঘরে দিন কাটছে চরম কষ্টে
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী বিধবা পিয়ারা বেগম ৪ সদস্যের পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করছেন। জীবনের মৌলিক নিরাপত্তা ও ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করাই এখন তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।স্থানীয় বাসিন্দা জনাব শাহজাহান কবির সম্রাট জানান, বোয়ালিয়া গ্রামসংলগ্ন বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য অবদার দুই পাশের বহু ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়। পিয়ারা বেগমেরও ঘরবাড়ি ওই সময় ভেঙে যায়। নিজস্ব জমি না থাকায় তিনি পরিবারসহ আশ্রয় নিতে বাধ্য হন প্রতিবেশীর একটি জরাজীর্ণ শালঘরে। যেখানে নেই পর্যাপ্ত জায়গা, নেই নিরাপত্তা—এ যেন প্রতিদিনই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।জানা যায়, অবদায় আশ্রয়কৃত পিয়ারা বেগমের ঘরটি পটুয়াখালীর রাংগাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) মহোদয়ের উদ্দ্যেগে নির্মাণ করে দেয়া হয়েছিল।পিয়ারা বেগমের বাবা মৃত আক্কেল দালাল—মৃত্যুকালে বয়স ছিল ৭৮ বছর। বর্তমানে এই পরিবারে রয়েছেন—তিনি নিজে, বৃদ্ধ মা, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে সোনাবানু, ছেলে সানাউল্লাহ।পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি সানাউল্লাহ স্পিডবোটে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে মাসে মাত্র চার হাজার টাকা আয় করেন। আবহাওয়া খারাপ থাকলে কাজ করার সুযোগ থাকে না। তাতে সানাউল্লাহর সামান্য আয় দিয়ে ৪ সদস্যের সংসার চালানো তো দূরের কথা, ঠিক মতো খাবার ও পিয়ারা বেগমের মেয়ের পড়ালেখার খরচ মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কেনার মতো সচ্ছলতাও নেই তাদের।
সরকারি সহায়তার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে পিয়ারা বেগম জানান, মাঝে মাঝে ১০ টাকা কেজি চাল পান, পাশাপাশি পান বিধবা ভাতা। তাঁর মা পান বয়স্ক ভাতা। তবে এগুলো দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা অসম্ভব।
রিলিফ বা অতিরিক্ত কোনো সহায়তা পান কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান—“নিয়মিত কোনো রিলিফ পাই না। আশেপাশে ঘরগুলো ভেঙে দেয়া হয়েছে। আমাদের ঘরটিও ভাংগা হবে। তাই বাধ্য হয়ে পাশের প্রতিবেশী লিটন দালাল (৫২) ও আলম মেম্বার (৬৬) এর জায়গায় থাকা একটি ভাঙা শালঘরে উঠেছি। এই ঘরেই দিন কাটাই।
চোখ ভেজা কণ্ঠে তিনি আরও বলেন—
“ছেলের সামান্য আয় আর আমার বিধবা ভাতায় সংসার চলে না। মেয়ের পড়াশোনা চালানো কষ্টকর। থাকার মতো ঘর নেই—এই ভাঙা শালঘরেই দিন কাটাইতেছি। কেউ সামান্য সাহায্য করলে মন থেকে দোয়া করি। বেশি কিছু চাই না, শুধু একটা নিরাপদ ঘর চাই—যাতে মা, ছেলে-মেয়ে নিয়ে নিরাপদে মানুষের মতো থাকতে পারি।
স্থানীয় মো.হেমায়েত বলেন,
“তারা আগে বাপের বাড়ির বাইরের সাইটে অবদায় থাকতেন। বেড়িবাঁধের কাজের জন্য ঘর ভাঙার পর তাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না। তাই আজ এমন কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—অসহায় এই পরিবারটির পাশে সরকার, সমাজসেবী প্রতিষ্ঠান বা সামর্থ্যবান কেউ এগিয়ে এলে পিয়ারা বেগম পরিবারটি অন্তত নিরাপদে মাথা গোঁজার ঠাঁই ফিরে পাবে এবং নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে।
এই বিভাগের আরো খবর
-
বিশ্ব স্বীকৃতি পাওয়া ‘জলবায়ু কার্যক্রম ও শান্তির জন্য তরুণ’ উদ্যোগের মাধ্যমে ঝালকাঠির শিক্ষার্থীদের জলবায়ু নেতৃত্ব বিকাশের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের...
-
যবিপ্রবি প্রতিনিধি"জুলাই গণগঅভ্যুত্থান দিবস" পালন উপলক্ষে দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বীর প্রতীক...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!