শিরোনামঃ

গলাচিপায় অপহরণের আড়াই মাস পরেও উদ্ধার হয়নি স্কুলছাত্রী


সঞ্জিব দাস, গলাচিপা,  পটুয়াখালী, প্রতিনিধি 

প্রায় আড়াই মাস আগে ‘অপহরণের শিকার’ হয়েছে মেধাবী স্কুলছাত্রী মোসাঃ মারুফা (১৩)। বাবা-মা জানেন না তাদের মেয়ে কোথায় আছেন, কেমন আছেন। এ ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ মারুফার বাবা-মায়ের।

একমাত্র মেয়েকে ফিরে পেতে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন তার মা খালেদা বেগম। 

মারুফা গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাউরিয়া গ্রামের বাসিন্দা  মোকারেফ হাওলাদার ও খালেদা বেগমের মেয়ে। সে হরিদেবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী৷ এর আগে দক্ষিণ বাউরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ ম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছে মারুফা। লেখাপড়া করে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে ছিলো তার। অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার দুইদিন আগে অপহরণের শিকার হয় সে। খালেদা বেগম বলেন, আমার মেয়ে মারুফাকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করতে উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের খোন্তাখালী গ্রামের রাহাত গাজী। মারুফা বিষয়টি আমাদেরকে জানালে, আমরা রাহাতের পরিবারকে জানাই। এতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। পরে ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে প্রাইভেট থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাহাতগাজী সহ ৭/৮ জন কিশোর আমার মেয়েকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাকে অপহরণে সহযোগিতা করেছেন রাহাতের বন্ধু কাওসার, আবদুর রহমান, মাইনুলসহ ৭/৮ জন। পরে রাহাতের পরিবারের কাছে আমার মেয়ের সন্ধান চাইলে, তারা জানায় তাদের আত্মীয়র বাড়িতে আছে। মারুফাকে রাহাতের কাছে থেকে উদ্ধার করে দেওয়ার আশ্বাস দেয় তারা। পরে পরিবারের সহায়তায় সেখান থেকে গভীর রাতে জোরপূর্বক মাইক্রোবাস যোগে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তারা। এতে সহযোগিতা করেছেন রাহাতের বাবা রিয়াজ গাজী, মা রোকসানা বেগম, চাচা রুবেল গাজী ও মিল্টন গাজী। পরে তাদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে আমার কাছে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে তারা। তারা জানায়, টাকা না দিলে আমার মেয়েকে দেবে না। নিরুপায় হয়ে ১৮ ডিসেম্বর গলাচিপা থানায় গিয়ে জিডি করছি। আমার মেয়েকে উদ্ধার করতে থানার পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়েছি। তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। জিডির ১৮ দিন পরে ৪ জানুয়ারি পটুয়াখালী লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করেছি। লিগ্যাল এইডের বিচারক ( সিনিয়র সিভিল জজ), মো. রাসেল মজুমদার অভিযোগ আমলে নিয়ে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার জন্য সুপারিশ করেন। পরে ১১ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করছি। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে গলাচিপা থানায় এজাহার পূর্বক আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। এখন পর্যন্ত মামলায় ৮ জন আসামির কেউ গ্রেফতার হয়নি এবং আমার মেয়ে উদ্ধারের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। নিরুপায় হয়ে আমি র‍্যাব-৮ পটুয়াখালী অফিসেও গিয়েছি। তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, আমি মেয়েকে ফেরত চাই।শুকতারা মহিলা সংস্থার পরিচালক মাহফুজা আক্তার বলেন, শিশুরা যাতে ভুল পথে না যায় এজন্য পরিবার, শিক্ষক ও প্রশাসনকে সচেতন হতে হবে। এদের কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে শিশুরা ভুল সিদ্ধান্ত নেবে এবং ভুল পথে যাবে। অপহরণ কিংবা নিখোঁজ শিশুদের পুলিশ উদ্ধার করে সঠিক পথে না আনতে পারলে একটা সময় দেশে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেবে। 

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গলাচিপা থানার উপ-পরিদর্শক ( এসআই) মো. সুমন বলেন, আমরা ভিক্টিমকে উদ্ধার করবো এবং আসামিদের গ্রেফতার করবো। আসামিদের সাথে যোগাযোগ করছি, ভিক্টিমকে স্বেচ্ছায় দেওয়ার কথা বলেছিল তারা। তবে ওরা আমার সাথে ফাজলামি করছে, ভিক্টিমকে দেয়নি। গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, আসামিরা কেউ এলাকায় নাই। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং ভিক্টিম উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?