ডিপোতে সংকট নেই দাবি প্রশাসনের, তেলের সরবরাহ না থাকায় বরগুনায় বন্ধ পাম্প ও খুচরা দোকান
সোহাগ হাওলাদার,বরগুনাঃ
বরগুনা জেলায় হঠাৎ করে অকটেন ও পেট্রোলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার একমাত্র তেলের পাম্প এস এন্ড বি ফিলিং স্টেশনে “অকটেন নাই” ও “পেট্রোল নাই” লেখা সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ না থাকার দাবিতে অধিকাংশ খুচরা তেলের দোকানও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জ্বালানি তেলের তিব্র সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চলাকসহ দূর-দূরান্তে যাতায়াত করা বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল থেকে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নে শহরের একমাত্র তেলের পাম্প এস এন্ড বি ফিলিং স্টেশনে এ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে ডিপোতে কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন বরগুনা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সজল চন্দ্র শীল।
সরেজমিনে বরগুনার এস এন্ড বি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন খুচরো দোকানে পেট্রোল অথবা অকটেন না পেয়ে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ছোট বড় গাড়ি নিয়ে মানুষের ভীড় বাড়ছে ফিলিং স্টেশনটিতে। কিন্তু অকটেন এবং পেট্রোল নাই লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন পাম্প কতৃপক্ষ। ফলে প্রয়োজনীয় জ্বালানি পেট্রোল বা অকটেন নিতে এসে খালি গাড়ি নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন তারা। অপরদিকে সরবরাহ নেই দাবিতে তেল বিক্রি করতে পারছেননা বলে জানিয়েছেন বরগুনার বিভিন্ন খুচরো ব্যবসায়ীরা। আর এ কারণেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন গন্তব্যে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকসহ দূরদূরান্তে যাতায়াত করা বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ। এছাড়া বিভিন্ন পণ্য পরিবহনেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বরগুনার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের।
এস এন্ড বি ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল নিতে এসে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চলাক মোঃ মন্টু চৌধুরী বলেন, আমি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাই। গাড়িতে তেল নাই কিন্তু বরগুনার বিভিন্ন দোকান ঘুরে কোথাও তেল পাইনি। সবশেষ পাম্পে এসে দেখি অকটেন পেট্রোল নাই লিখে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মাসুদ শিকদার নামের একজন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক বলেন, আমরা গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাই। প্রতিদিন আমাদের অন্তত ৫০০ টাকার তেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে ১০০-২০০ টাকার তেল কিনতে পেরেছি। তবে আজকে কোথাও তেল না পেয়ে পাম্পে এসে দেখি এখানেও তেল নাই। এমনিতেই তেলের অভাবে আগের মতো সারাদিন গাড়ি চালাতে পারিনা। এভাবে চললে আমাদের আয় বন্ধ হয়ে যাবে।
মোঃ আলমগীর হোসেন মোটরসাইকেলে করে বরগুনার বিভিন্ন জায়গায় ওষুধ সরবরাহ করেন। প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে আমি তেল সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছি। এর আগে শহর থেকে যখন দূরের বাজারে ওষুধ সরবরাহ করতে যেতাম তখন বিভিন্ন দোকান থেকে গাড়িতে তেল সংগ্রহ করতে পারতাম। কিন্তু এখন আর কোনো দোকানে তেল পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে আমাকে পাম্পে তেল নিতে আসতে হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি পাম্পেও তেল নেই। এভাবে চলতে থাকলে আয় বানিজ্য বন্ধ হয়ে এক পর্যায়ে আমার সংসার চালানোই অসম্ভব হয়ে পরবে।
বরগুনার বিভিন্ন খুচরো দোকানে তেল না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলার কেওরাবুনীয়া এলাকার নার্গিস স্টোর নামে একটি খুচরা তেল বিক্রির দোকানের ব্যবসায়ী মোসম্মৎ নার্গিস সুলতানা বলেন, আমার দোকানে বিক্রির জন্য বর্তমানে কোনো অকটেন এবং পেট্রোল নেই। গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে বিক্রির জন্য কোনো তেল পাচ্ছি না। প্রতিদিন যোগাযোগ করলেও কবে তেল পাওয়া যাবে তা এখন পর্যন্ত জানতে পারিনি।
একই এলাকার তামিম স্টোর নামে আরেকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের খুচরা তেল বিক্রেতা শারমিন বলেন, বরগুনায় তেল সংকট শুরু হওয়ার পর দোকানে যে তেল ছিল তাতে তিন-চারদিন বিক্রি করতে পেরেছি। এরপর আর তেল পাইনি। আমরা পাম্প থেকে তেল এনে দোকানে বিক্রি করি। কিন্তু এখন তারা তেল দিতে পারছেন না। এছাড়াও কবে দিতে পারবে তাও বলতে পারছেনা। আর এ কারণেই আমাদের তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
অপরদিকে অধিকাংশ দোকানে জ্বালানি তেল না থাকলেও বরগুনা পৌরশহরের তানহা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পেট্রোল থাকার খবর পাওয়া গেছে। শুধুমাত্র ওই একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে মাত্র এক থেকে দুই লিটার করে তেল নিতে পারছেন মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ছোট-বড় গাড়ির চলাকরা। তবে দুপুরে মধ্যেই জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যাবে জানিয়ে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ সেলিম বলেন, গত পাঁচ তারিখ আমি তেল সংগ্রহ করতে পেরেছি। ওই দিন থেকেই অল্প অল্প করে তেল বিক্রি করছি। আজকে কোথাও তেল না থাকায় আমর এখানে তেল নিতে অতিরিক্ত ভীড় সৃষ্টি হয়েছে। পরে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে মানুষকে তেল দিচ্ছি। তবে ৫ তারিখের পর নতুন করে কোনো তেল সংগ্রহ করতে পারিনি। আজ দুপুরের পর তেল শেষ হয়ে গেলে আর পওয়ার সম্ভাবনাও দেখছি না।
পেট্রোল এবং অকটেন সংকটের বিষয়ে এস এন্ড বি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার রিপন কুমার ব্যাপারী বলেন, গতকাল রাত ১১ টার দিকে আমাদের পাম্পে পেট্রোল এবং অকটেন শেষ হয়েছে। শুক্রবার এবং শনিবার ডিপো বন্ধ থাকায় আমরা তেল পাইনি। আগামী রোববার ডিপো থেকে আমাদেরকে তেল দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে কি পরিমাণ বা কোন তেল দিবে তা নিশ্চিত বলতে পারছিনা।
এবিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিট্রেট সজল চন্দ্র শীল বলেন, যতটুকু জেনেছি তেলের সংকট নেই, বরিশালের ডিপো থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়াও সরকারিভাবে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে, তারা মনিটরিং করছেন। তবে এস এন্ড বি ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল এবং অকটেন নাই লিখে সাইনবোর্ড দেওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত নন বলে জানান।