শিরোনামঃ

বরিশালে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও শেবাচিম কর্মচারীদের সংঘর্ষ, অন্তত ২০ আহত



শাকিব উল হক,

বরিশাল প্রতিনিধি


বরিশালে স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের দাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থী ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে হাসপাতাল এলাকা ও আশপাশে সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন শেবাচিমের কর্মচারী রফিক পাটোয়ারী, সাইফুল ইসলাম পারভেজ, সেলিনা এবং আরও চারজন। বাকি আহতরা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে অনশনস্থলে গিয়ে কিছু কর্মচারী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেন। এসময় আন্দোলনের সমন্বয়কারী মহিউদ্দিন রনিকে খুঁজে বের করে মারধরের চেষ্টা চালানো হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আন্দোলনকারীরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রসহ একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। হাসপাতালের কর্মচারীরা একজন আন্দোলনকারীকে মারধরের পর স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনকে অবৈধ ঘোষণা করে স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর তারা হাসপাতাল কম্পাউন্ড ছাড়িয়ে মূল সড়কে নেমে বিক্ষোভ চালান। এবং ফিরে এসে আবারও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বেদম মারধর করা হয়।


আন্দোলনের মুখপাত্র নাভিদ নাসিফ বলেন, “পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওইদিন গণঅনশন চলছিল। এসময় অ্যাপ্রোন পরিহিত কিছু কর্মচারী চিকিৎসা নিতে আসা রোগীকে মারধর করেন এবং তার স্বজনদের আটক করে রাখেন। এরপর তারা অনশনরত শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন।”


অন্যদিকে হাসপাতাল কর্মচারীদের অভিযোগ, অনশনকারীরা হাসপাতালের প্রধান ফটক আটকে রেখে টানা চারদিন অবস্থান করায় রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এছাড়া স্টাফদের সঙ্গে অসদাচরণ করায় তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।


শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, “আমি অফিসে ছিলাম। কারও ওপর হামলা হয়েছে কি-না, তা আমার জানা নেই।”


উল্লেখ্য, মহিউদ্দিন রনির নেতৃত্বে বরিশালের ছাত্রজনতা শেবাচিমে সেবার মান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যখাতের সামগ্রিক সংস্কার ও অব্যবস্থাপনা দূরীকরণসহ তিন দফা দাবিতে গত ১৮ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে গত পাঁচ দিন ধরে তারা ‘বরিশাল ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেছেন, যাতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রতিদিন ৪-৫ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এর ফলে দূরপাল্লার বাসসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল ব্যহত হয়। এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীরা।

গত বুধবার নথুল্লাবাদ এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বাস শ্রমিকদের সংঘর্ষেরও ঘটনা ঘটেছে।


এছাড়াও গত বুধবার বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীদের একাংশ স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তারা আগামী ৩০ কার্যদিবস সময় বেঁধে দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করেছেন।


বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শেবাচিম হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?