শিরোনামঃ

বরিশালে নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবস উপলক্ষে নাগরিক সংলাপ

জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করে নির্মল বায়ুর ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান


আন্তর্জাতিক নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বরিশালে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করি, নির্মল বায়ুর ভবিষ্যৎ গড়ি’ শীর্ষক এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি), বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরাম, আরোহী, আভাস, ডোক্যাপ, শিল্ড, প্রান্তজন ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সনাক বরিশালের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ গাজী জাহিদ হোসেন। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা এবং অধ্যক্ষ (অব.) আমিনুর রহমান খোকন।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ডেইলি স্টারের সাংবাদিক সুশান্ত ঘোষ, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-বরিশালের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সুভাষ দাস, ব্লাস্ট বরিশালের কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট শাহিদা তালুকদার, টিআইবি বরিশালের এরিয়া ম্যানেজার আশফাকুর রহমান, আইসিডিএর নির্বাহী পরিচালক কাজী নওশাদ রাসেল, হাসিনা বেগম নীলা, নারী উদ্যোক্তা রেবেকা সুলতানা, রূপান্তরের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ঝুনু কর্মকার এবং প্রান্তজন ট্রাস্টের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সাইফুল্লাহ মাহমুদ। সংলাপ সঞ্চালনা করেন বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক শুভংকর চক্রবর্তী।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, প্রতি বছর ৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবস পালিত হয়। পরিচ্ছন্ন বায়ু মানুষের স্বাস্থ্য, জীবিকা, পরিবেশ ও সার্বিক কল্যাণের অন্যতম মৌলিক শর্ত। বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের উৎসগুলো পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হওয়ায় নির্মল বায়ু নিশ্চিত করার উদ্যোগ জলবায়ু সংকট মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

বক্তারা আরও বলেন, ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘Clean Air, Healthy Choices: Acting Together for People and Planet’ ব্যক্তি, সমাজ, প্রতিষ্ঠান ও সরকারের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করে। জ্বালানি ব্যবহার, পরিবহন ব্যবস্থা, শিল্প উৎপাদন, নগর পরিকল্পনা ও দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বায়ুর মানকে সরাসরি প্রভাবিত করে।

বাংলাদেশে যানবাহনের ধোঁয়া, অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটা, শিল্পকারখানার নির্গমন, নির্মাণকাজের ধুলা, বর্জ্য পোড়ানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস বলে উল্লেখ করেন তারা। এর সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে শিশু, প্রবীণ, শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ।

বক্তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার একদিকে বায়ুদূষণ ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে জলবায়ু ঝুঁকিও তীব্র করছে। তাই পরিচ্ছন্ন বায়ু নিশ্চিত করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্ন রান্না ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

সংলাপে ‘Just Energy Transition’ বা ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের সুফল সবার কাছে পৌঁছাতে হবে। একই সঙ্গে এ পরিবর্তনের কারণে শ্রমজীবী, নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী যেন অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

বরিশালকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন, হাঁটা ও সাইকেলবান্ধব অবকাঠামো, নির্মাণকাজের ধুলা নিয়ন্ত্রণ, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ, সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং নিয়মিত বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংলাপ থেকে বায়ুদূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ, নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রসার, পরিবেশবান্ধব পরিবহন ও নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত এবং জ্বালানি রূপান্তরের প্রতিটি পর্যায়ে মানুষের অধিকার, জীবিকা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, পরিচ্ছন্ন বায়ু কোনো বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের অধিকার এবং সুস্থ ও নিরাপদ জীবনের পূর্বশর্ত। শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা নয়, পরিচ্ছন্ন বায়ু নিশ্চিত করতে কার্যকর সরকারি নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন ও নাগরিক অংশগ্রহণ জরুরি।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?