- সাকিব উল হক, বরিশাল
- প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৬ ০৭:০৮ পিএম
বরিশালে নারী মাদক সিন্ডিকেটের ভয়ংকর বিস্তার
বরিশালে ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে নারী মাদক কারবারিদের নেটওয়ার্ক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এখন পুরুষ মাদক গডফাদাররা ব্যবহার করছে নারী ও শিশুদের। পারিবারিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলে নগরীর বস্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় বিস্তার করা হচ্ছে মাদকের জাল। অভিযানে একের পর এক নারী গ্রেফতার হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে মূল হোতারা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মাসে বরিশাল জেলায় ২৩ জন নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন। আটক হওয়া কারবারিদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি উদ্ধার হয়েছে ইয়াবা ও গাঁজা।
জানা গেছে, বরিশাল নগরীর রসুলপুর, কেডিসি ও মোহাম্মদপুর বস্তি এখন মাদকের বড় ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। নতুন করে রুপাতলী, নথুল্লাবাদ ও কাশিপুর এলাকাও মাদক ব্যবসার নতুন হটস্পট হিসেবে গড়ে উঠছে।
গত ৯ মে রসুলপুর বস্তিতে অভিযানে গ্রেফতার হন সোহাগী বেগম (২৮)। তবে পালিয়ে যান তার স্বামী রেজাউল সিকদার রেজা, যাকে স্থানীয়রা ওই এলাকার অন্যতম মাদক গডফাদার হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও পারিবারিক সদস্যদের ব্যবহার করে তিনি এই মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এছাড়া ১৬ মার্চ নবগ্রাম রোড থেকে ১৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার হন নিপা (৪২) ও অন্তরা আক্তার (২৮)। ৫ মে কোতোয়ালি এলাকায় মাদক ইনজেকশন মারফিন সহ আটক হন ফাবিহা মিনহা রেখা (২৬)। তদন্তে উঠে এসেছে, মারফিন ইনজেকশন পাচারকারী চক্রের মূল হোতা হানিফুর রহমান হৃদয় স্ত্রীকে ব্যবহার করতেন “নিরাপদ বাহক” হিসেবে।
শুধু বরিশাল নগরী নয়, বিভাগের বিভিন্ন জেলাতেও ক্রমেই বাড়ছে নারী মাদক কারবারিদের সক্রিয়তা। হিজলার পশ্চিম কোড়ালিয়া থেকে ৫৫২ পিস ইয়াবাসহ তাসলিমা বেগম (৫০), পিরোজপুরের কাউখালীতে ইয়াবাসহ কথিত “মাদক সম্রাজ্ঞী” মর্জিনা (৫২) এবং ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে ২৪ কেজি গাঁজাসহ কোহিনুর বেগম (৪৯) গ্রেফতার হন।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: তানভীর হোসেন খান রিপোর্ট-৭১ কে জানান, বরিশাল নগরীর পলাশপুরের রসুলপুর, মোহাম্মদপুর ও কেডিসি এলাকায় নিলু, শিল্পী ও সোহাগীসহ কয়েকজন নারী ইতোমধ্যেই বড় পরিসরে নিজেদের মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। তাদের মাধ্যমেই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন নারী মাদক ব্যবসায়ী।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী বেরিয়ে এসেছে ভয়াবহ তথ্য, মাদক পাচারের কৌশলেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে নৌ ও স্থলপথ ব্যবহার হলেও এখন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমেও বরিশালে পৌঁছাচ্ছে ড্রাগসের চালান। কক্সবাজার থেকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া হয়ে সরাসরি বরিশালে আসছে ইয়াবা। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলে মাদকের প্রবাহ আরও বেড়েছে।
বর্তমানে “কাট-অফ” পদ্ধতিতে চলছে মাদক ব্যবসা। মূল গডফাদাররা আড়ালে থেকে নারী বাহকদের মাধ্যমে মাদক সরবরাহ করছে। অনেক সময় বাহক নিজেও জানে না প্রকৃত নিয়ন্ত্রক কে। এদিকে শহরের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক মাদক কারবারের তথ্য পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরও বলেন, “দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় অনেক কারবারি গ্রেফতারের পর আবার জামিনে বের হয়ে একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। শুধু বাহক নয়, মূল গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।”
এই বিভাগের আরো খবর
-
যবিপ্রবি প্রতিনিধিআন্তর্জাতিক গবেষণা ডাটাবেজ ‘স্কোপাস’ (Scopus)-এর ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে শীর্ষে...
-
যবিপ্রবি প্রতিনিধিঃবাংলাদেশ রসায়ন সমিতির উদ্যোগে এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) রসায়ন বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘১৬তম...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!