- জেইসান ইসলাম হৃদয়
- প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬ ০২:৩৭ পিএম
অন্ত্র থেকে মস্তিষ্কে ক্ষতিকর হান্টিংটিন প্রোটিনের যাত্রা এবং হান্টিংটন রোগসদৃশ পরিবর্তন
হান্টিংটন রোগ একটি বংশগত মস্তিষ্কের রোগ, যেখানে একটি অস্বাভাবিক প্রোটিন ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি করে। সাধারণত এই রোগকে শুধু মস্তিষ্কের রোগ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ধারণা হলো, শরীরের অন্য অংশ, বিশেষ করে অন্ত্র, মস্তিষ্কের রোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আমরা জানতে চেয়েছি, অন্ত্রে তৈরি হওয়া ক্ষতিকর হান্টিংটিন প্রোটিন কি মস্তিষ্কে পৌঁছে রোগের মতো পরিবর্তন ঘটাতে পারে?
সমস্যাটি কী ছিল
এখনো পরিষ্কার ছিল না যে অন্ত্র থেকে কোনো ক্ষতিকর রোগ-সম্পর্কিত সংকেত মস্তিষ্কে যেতে পারে কি না। যদি এটি সত্য হয়, তাহলে হান্টিংটন রোগকে শুধু মস্তিষ্কের রোগ হিসেবে না দেখে, অন্ত্র ও মস্তিষ্কের যোগাযোগের রোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
আমরা কী করেছি
আমরা ইঁদুরের অন্ত্রের নির্দিষ্ট অংশে এমন একটি ব্যবস্থা ব্যবহার করেছি, যার মাধ্যমে ক্ষতিকর হান্টিংটিন প্রোটিন তৈরি হয়। এরপর আমরা দুই ধরনের প্রাণী তুলনা করেছি। একদল প্রাণীর অন্ত্র থেকে মস্তিষ্কে যাওয়ার প্রধান স্নায়ু অক্ষত ছিল। অন্যদলে সেই স্নায়ু কেটে দেওয়া হয়েছিল, যাতে অন্ত্র ও মস্তিষ্কের সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ থাকে। এরপর আট মাস ধরে আমরা মস্তিষ্ক, আচরণ, চলাফেরা এবং স্নায়ুকোষের কাজ পর্যবেক্ষণ করেছি।
আমরা কী পেয়েছি
যেসব প্রাণীর অন্ত্র-মস্তিষ্ক সংযোগ অক্ষত ছিল, তাদের মস্তিষ্কে ধীরে ধীরে ক্ষতিকর হান্টিংটিন-সম্পর্কিত সংকেত জমা হতে দেখা যায়। প্রথমে এটি মস্তিষ্কের এমন অংশে দেখা যায়, যা অন্ত্রের স্নায়ু-সংযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। পরে এটি মস্তিষ্কের চলাফেরা, আবেগ, স্মৃতি এবং চিন্তার সঙ্গে যুক্ত অংশগুলোতে দেখা যায়।
এই প্রাণীগুলোতে আরও দেখা যায়:
• মস্তিষ্কে ক্ষতিকর প্রোটিন জমা হওয়া
• মস্তিষ্কের সহায়ক কোষগুলোর অতিরিক্ত সক্রিয়তা
• প্রদাহ বা জ্বালাভাব বৃদ্ধি
• স্নায়ুকোষের স্বাস্থ্য কমে যাওয়া
• মস্তিষ্কের সিগন্যাল দেওয়ার ধরনে অস্বাভাবিকতা
• চলাফেরায় সমস্যা
• উদ্বেগ ও বিষণ্নতার মতো আচরণ
কিন্তু যেসব প্রাণীর অন্ত্র-মস্তিষ্ক স্নায়ু সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে এই পরিবর্তনগুলো দেখা যায়নি বা অনেক কম দেখা গেছে।
এর অর্থ কী
এই গবেষণা দেখায় যে অন্ত্রে তৈরি হওয়া ক্ষতিকর হান্টিংটিন-সম্পর্কিত সংকেত মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলতে পারে, এবং এই প্রভাবের জন্য অন্ত্র থেকে মস্তিষ্কে যাওয়া স্নায়ু পথটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অর্থাৎ হান্টিংটন রোগকে শুধু মস্তিষ্কের ভেতরের সমস্যা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা নাও যেতে পারে।
মানুষে এর গুরুত্ব কী
মানুষের ক্ষেত্রে এই গবেষণা সরাসরি প্রমাণ করে না যে একই ঘটনা হুবহু ঘটে। তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়: অন্ত্র হয়তো হান্টিংটন রোগের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে যদি মানুষের ক্ষেত্রেও এমন সম্পর্ক পাওয়া যায়, তাহলে অন্ত্রের পরিবর্তন দেখে রোগের প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।
এটি আরও ইঙ্গিত দেয় যে অন্ত্রের প্রদাহ কমানো, অন্ত্রের জীবাণুর ভারসাম্য ঠিক রাখা, বা অন্ত্র-মস্তিষ্ক সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করা ভবিষ্যতে হান্টিংটন রোগের চিকিৎসা বা রোগ ধীর করার নতুন পথ খুলতে পারে।
শেষ কথা
সার্বিকভাবে, এই গবেষণা দেখায় যে অন্ত্র ও মস্তিষ্কের যোগাযোগ হান্টিংটন রোগের মতো স্নায়ুক্ষয়জনিত রোগে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এটি বিদ্যমান জ্ঞানে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করে এবং ভবিষ্যতে মানুষে রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও নতুন চিকিৎসা কৌশল তৈরির সম্ভাবনা তৈরি করে।
গবেষক
জেইসান ইসলাম হৃদয়
পোস্ট ডক্টরাল রির্সারচার
চুম্বক ন্যাসনাল ইউনিভার্সিটি
দক্ষিণ কোরিয়া ।
এই বিভাগের আরো খবর
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী,প্রতিনিধি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর কাজল ইউনিয়নে বৃষ্টিতে মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ায় পানি নামাতে স্কুলের মাঠ কেটে ‘ক্যানেল’...
-
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধমূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে| গোপালগঞ্জ ওয়াই ডাব্লিউ সি এ রাইজআপ প্রকল্প-৫ এর আয়োজনে এ...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!