- নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৬ ০৯:৫০ এএম
ঈদ সামনে রেখে অস্থির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার
কুরবানির ঈদ সামনে রেখে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার। প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবকেন্দ্রিক বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অসাধু চক্র। বাজারে পণ্যের ঘাটতি না থাকলেও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে দফায় দফায় বাড়ছে সব পণ্যের দাম।
ইতোমধ্যে পোলাওর চাল কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কেজি ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। কেজিতে ১০০ টাকা বাড়িয়ে গরুর মাংস ৮০০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অস্থির ভোজ্যতেলের বাজারও। পাশাপাশি দুধ, চিনি, সেমাই, কিশমিশসহ মসলাপণ্যের মূল্যও বেড়ে চলেছে। কুরবানির ঈদ উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে নাকাল অবস্থায় পড়তে যাচ্ছেন ভোক্তা। তাদের ঠকানোর সব রাস্তা তৈরি করছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।
মুসলিম পরিবারে ঈদ এলে পরিবারের জন্য ভালো খাবারের আয়োজন করতে বাড়তি কেনাকাটা করেন সবাই। প্রতিবছর এ বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করেই বাজারে সক্রিয় হয়ে ওঠে অসাধু ব্যবসায়ীচক্র। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জিনজিরা বাজার, নয়াবাজার ও রায়সাহেব বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয়।
জানা যায়, প্রতিকেজি পোলাওর চাল মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা। যা দুই মাস আগে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৭০ টাকায়। দুই মাস আগে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা। দুই মাস আগেও কেজি ছিল ১০০ টাকা। প্রতিকেজি আলুবোখারা বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়, যা দুই মাস আগে ছিল ৫০০ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪৬০০ টাকা, যা আগে ৪৩০০ টাকা ছিল। পাশাপাশি প্রতিকেজি লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৪৫০ টাকায়, যা আগে ১২০০-১২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
মাংসের মধ্যে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৭৩০ টাকায়। এছাড়া প্রতিকেজি গরুর মাংস ৮০০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি খাসির মাংস ১২০০ টাকা।
ঈদ ঘিরে রাজধানীর জিনজিরা বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মুনতাসির আহমেদ বলেন, বাজারে ক্রেতার স্বস্তি নেই। বছরের একেক সময় একেক অজুহাতে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে। অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে ক্রেতাকে নাজেহাল করে তোলে। রোজা থেকে শুরু করে রোজার ঈদ এমনকি কুরবানির ঈদ এলে বিক্রেতারা অতিমুনাফা করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। বাড়ায় পণ্যের দাম।
এছাড়া যে কোনো ধর্মীয় উৎসবেও বিক্রেতা পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাকে ঠকায়। এবার কুরবানির ঈদের আগেই একাধিক পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক প্রকার নিশ্চুপ তদারকি সংস্থা।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, রোজা-ঈদসহ কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান এলে দেশে একশ্রেণির ব্যবসায়ী অতিমুনাফা করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এবারও একই চিত্র। ভোক্তাকে স্বস্তি দিতে হলে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করতে হবে। তিনি বলেন, ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণে যে আইন আছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে ভোক্তা কিছুটা হলেও সুফল পাবেন।
খুচরা বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, বাজারে গুঁড়োদুধের মধ্যে প্রতিকেজি ডানো গুঁড়োদুধ ৮৬০ টাকা, ডিপ্লোমা দুধ ৯২০ টাকা, ফ্রেশ দুধ ৮৯০ টাকা ও মার্কস দুধ ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ২০০ গ্রামের প্যাকেটজাত লাচ্চা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, যা আগে ৪৫ টাকা ছিল। ২০০ গ্রামের প্যাকেটজাত চিকন সেমাই ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা দরে। প্রতিকেজি দেশি রসুন ১৪০ ও আমদানি ২২০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি হলুদ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা। আদা কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, কুরবানির ঈদ ঘিরে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সার্বিকভাবে বাজারে তদারকি অব্যাহত রেখেছে। রাজধানীতে প্রতিদিন কয়েকটি টিম বাজারে তদারকি করছে। প্রতিটি বিভাগীয় অফিস থেকেও কর্মকর্তারা বাজারে কঠোরভাবে তদারকি করছেন। অনিয়ম পেলেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
এই বিভাগের আরো খবর
-
যবিপ্রবি প্রতিনিধিআন্তর্জাতিক গবেষণা ডাটাবেজ ‘স্কোপাস’ (Scopus)-এর ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে শীর্ষে...
-
যবিপ্রবি প্রতিনিধিঃবাংলাদেশ রসায়ন সমিতির উদ্যোগে এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) রসায়ন বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘১৬তম...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!