শিরোনামঃ

বরিশালে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে ৭ দফা দাবি

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বরিশালে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বরিশাল বিডিএস ক্লাবে ‘ছাদ ভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সুযোগ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিজিএম প্রকৌশলী জাহিদা খানম।

প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-বরিশাল, প্রান্তজন, কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (CLEAN) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BWGED)-এর যৌথ উদ্যোগে বরিশাল বিভাগীয় প্রতিবেশ উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক গাজী জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক শুভংকর চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা পরিষদের সভাপতি পুষ্পরানি চক্রবর্তী এবং বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের সদস্য সচিব সুভাষ চন্দ্র দাস।

সভায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যক্তিগত পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে প্রতি কিলোওয়াটে ২৫ হাজার টাকা ভর্তুকি প্রদান এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে নারী ও আদিবাসীদের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া।


শিল্প-কারখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি স্থাপনার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন আইনিভাবে বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি এ কাজে উৎসাহমূলক আর্থিক সুবিধা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

এছাড়া ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ ক্ষুদ্র নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগে সহায়তার জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন তহবিল গঠনের দাবি জানানো হয়। এ তহবিল পরিচালনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কোনো সুদ না নেওয়া এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।

সভায় ভোক্তা পর্যায়ে সব নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক, কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নেট-মিটারিং প্রক্রিয়া সহজ করে গ্রাহকবান্ধব করার মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করতে স্মার্ট গ্রিড অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এছাড়া ‘জমি স্বল্পতার’ অজুহাত না দিয়ে অব্যবহৃত ছাদ ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জনে উদ্যোগ গ্রহণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে তরুণদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবিও জানানো হয়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই। শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন ভবনের অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাপ কমবে, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?