শিরোনামঃ

বরিশালে সুমন হত্যা: আসামিদের গ্রেপ্তার ও সিআইডি তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

বরিশাল প্রতিনিধি:

বরিশালের বাকেরগঞ্জে ভ্যানচালক সুমন সিকদারকে (৩২) প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচারের স্বার্থে মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তরের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (বিআরইউ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে নিহতের বড় ভাই মো. আ. মান্নান সিকদারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিবেশী মো. মনির খান।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের কালেরকাঠি গ্রামের ফরাজি মার্কেট সংলগ্ন নিজ বাড়ির উঠানে একদল সন্ত্রাসী অনাধিকার প্রবেশ করে। সন্ত্রাসীরা সুমন সিকদারকে বসতঘর থেকে টেনে-হেঁচড়ে বের করে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের মা মোসা. মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামিরা হলেন—কালেরকাঠি গ্রামের মো. মন্নান ওরফে মনা তালুকদার (৬২), মো. সুমন সিকদার (২৫), মো. রিগান হাওলাদার (৩৮) ও আ. রহিম হাওলাদার (৬৩)।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ১ নম্বর আসামি মন্নান ওরফে মনা তালুকদারের সঙ্গে নিহতের স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের বিরোধকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। পরবর্তীতে স্বজনদের অনুসন্ধানে জানা যায়, হামলার প্রক্রিয়ায় সেজান হাওলাদার, তামিম তালুকদার, আতিক গাজী, আল আমিন শরীফ, ইরফান মল্লিক, মোস্তফা হাওলাদার, রুবেল হাওলাদার ও নাইম হাওলাদারও প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছিলেন।

নিহতের পরিবারের দাবি, আসামিরা এলাকার চিহ্নিত অপরাধী। তাঁরা স্থানীয় কবাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. কামরুল হাসান রুবেলের ছত্রছায়ায় এলাকায় মাদক, চুরি ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। মামলার ৩ নম্বর আসামি রিগান হাওলাদার ওই বিএনপি নেতার অঙ্গরক্ষক (বডিগার্ড) হিসেবে পরিচিত।

সংবাদ সম্মেলনে স্বজনরা চরম ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। এ অবস্থায় স্থানীয় তদন্তে আস্থা না পেয়ে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তরের দাবি জানান তাঁরা। সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ১০ বছর বয়সী ছেলে তানভীর, মা মোসা. মনোয়ারা বেগম ও ভাবি নাজমা বেগমসহ স্থানীয় প্রতিবেশীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলেও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. কামরুল হাসান রুবেলের ব্যবহৃত দুইটি মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?