শিরোনামঃ

বরিশালে বিয়ের আনন্দ বিষাদে রূপ: কনেকে নিয়ে কুৎসা ও পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলা!



নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকায় বিয়ের কনেকে নিয়ে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ করায় কনের বাবা ও স্বজনদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার দুপুরে কোতোয়ালি মডেল থানাধীন রূপাতলী গাউছিয়া সড়ক এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কনের বৃদ্ধ দাদা মো. আ. লতিফ হাওলাদার অপরপক্ষের স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাকিল খান সহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,গত ২০ ফেব্রুয়ারি কনে মুন্নি আক্তারের (১৯) বিয়ের অনুষ্ঠান ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন ছিল। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবেশী শাকিল খান ও জাহিদ খানসহ অভিযুক্তরা বরপক্ষের কাছে কনের চরিত্র নিয়ে মিথ্যা অপবাদ রটায় এবং কনে 'বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে' বলে গুজব ছড়ায়।জুম্মার নামাজ শেষে দুপুর আনুমানিক ২:১৫ মিনিটের দিকে কনের পরিবার এই অপবাদের কারণ জানতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

কনের মামা সোহাগ হাওলাদার বাদী হয়ে থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেন, শাকিল খান ও জাহিদ খানের নেতৃত্বে ৭-৮ জন চিহ্নিত ও অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় বৃদ্ধ আ. লতিফ হাওলাদারের হাতের কবজি রামদার কোপে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া লোহার রড ও লাঠির আঘাতে কনের বাবা কামরুল ইসলাম, মা ময়না বেগম ও কনের বড় ভাই মুন, মামা মিজানুর রহমান বাচ্চু ও সোহাগ হাওলাদার ও আমিরুল ইসলাম সহ অন্যান্য সাক্ষীরা আহত হন। এজাহারে কনের ফুফুর শ্লীলতাহানির অভিযোগও আনা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।বিয়ের আনন্দ মাটি করতেই এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। 

কনের মামা আমিরুল ইসলাম জানান, হামলার পরপর শাকিল ও জাহিদ দেশী অস্ত্র নিয়ে বর পক্ষের পরিবারকে বিয়ে না করতে হুমকি দেয়া হয়। যে কারণে দিশেহারা হয়ে বরের পরিবার বিয়ে ভেঙ্গে দেয়।

অভিযোগ উঠেছে যে, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করার পরও অভিযুক্তদের দাপটে তারা সঠিক চিকিৎসা নিতে পারছিলেন না এবং হুমকির মুখে হাসপাতাল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে বৃদ্ধ আব্দুল লতিফকে পুনরায় সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।


অন্যদিকে, অভিযুক্ত বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাকিল খান হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন। তিনি জানান:তিনি একজন পেশাদার জমি ব্যবসায়ী।পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সোহাগ হাওলাদার ও মাসুম মৃধাসহ একদল লোক তাকে

পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করেছে।

তিনি হামলাকারীদের 'আওয়ামী লীগের দোসর' হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, নিজেদের অপরাধ ঢাকতেই তার বিরুদ্ধে অপবাদ ও হামলার উল্টো অভিযোগ আনা হচ্ছে।


কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত এজাহার প্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকায় বর্তমানে উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?