- সাঈদ পান্থ, বরিশাল
- প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬ ০১:৪৬ পিএম
বরিশালে আবাসন খাতে চরম স্থবিরতা
চলমান আবাসন খাতের মন্দার প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়েছে বরিশালেও। ফ্ল্যাট বিক্রি কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ডেভেলপাররা। একই সঙ্গে রড, সিমেন্ট, টাইলস, বালি, ইট ও পাথরের ব্যবসায়ও নেমে এসেছে স্থবিরতা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ সুদের ব্যাংক ঋণ, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় পুরো খাত এখন টিকে থাকার লড়াই করছে।
বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ, রূপাতলী, বগুড়া রোড, কাশীপুর, সদর রোড ও বান্দ রোড এলাকায় নতুন আবাসন প্রকল্পের কাজ আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। অনেক নির্মাণাধীন ভবনের কাজ ধীরগতিতে চলছে। ডেভেলপাররা বলছেন, আগে যেখানে একটি প্রকল্পের বেশিরভাগ ফ্ল্যাট নির্মাণের আগেই বুকিং হয়ে যেত, এখন প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও অনেক ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে না।
স্থানীয় আবাসন ব্যবসায়ীদের দাবি, গত দুই বছরে ফ্ল্যাট বিক্রি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে গেছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ক্রেতারা এখন গৃহঋণ নিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ব্যাংক ঋণের সুদহার বৃদ্ধি পাওয়ায় মাসিক কিস্তির চাপ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।
বরিশাল নগরীর কয়েকটি নির্মাণসামগ্রীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো ক্রেতার ভিড় নেই। টাইলস, স্যানিটারি ও রডের দোকানগুলোতে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্মাণকাজ কমে যাওয়ায় বাজারে চাহিদাও কমেছে।
নগরীর সিএন্ডবি রোডের রড ব্যবসায়ী মো: রুমিন জানান, আগে প্রতিদিন বড় অঙ্কের বিক্রি হলেও এখন অনেক দিন অল্প বিক্রিতেই দিন শেষ করতে হচ্ছে। এতে দোকান ভাড়া, শ্রমিকের বেতন ও ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
টাইলস ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ বলেন, “নতুন ভবন নির্মাণ কমে গেছে। যারা কাজ করছেন, তারাও খরচ কমাতে কম দামের পণ্য কিনছেন। ফলে ব্যবসায় মন্দাভাব চলছে।”
আবাসন খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েক বছরে রড, সিমেন্ট, বালি, ইটসহ প্রায় সব নির্মাণসামগ্রীর দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে একটি ফ্ল্যাট নির্মাণে ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই অনুপাতে ক্রেতা বাড়েনি। বরং উচ্চ মূল্য ও ঋণের সুদের কারণে অনেকেই ফ্ল্যাট কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছেন।
ডেভেলপার মামুন মল্লিক জানান, বরিশালে জমির দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। অন্যদিকে নির্মাণ ব্যয় বাড়লেও ফ্ল্যাটের দাম অতিরিক্ত বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লাভ কমে যাওয়ায় নতুন প্রকল্প হাতে নিতে অনীহা তৈরি হয়েছে উদ্যোক্তাদের মধ্যে।
অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবাসন শিল্পের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। এ খাতের মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হলে রাজমিস্ত্রি, শ্রমিক, পরিবহন কর্মী থেকে শুরু করে নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ী সবাই ক্ষতির মুখে পড়বেন।
তাদের মতে, আবাসন খাতকে সচল রাখতে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ, কর ছাড় ও সহজ অর্থায়নের ব্যবস্থা জরুরি। তা না হলে বরিশালসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
এই বিভাগের আরো খবর
-
যবিপ্রবি প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী, উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী ও প্রবন্ধ প্রকাশনা বিষয়ক ধারণা সৃষ্টির লক্ষ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) শুরু হলো...
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর শহরে লিফলেট ছিটানোর ঘটনা ঘটেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এই ঘটনায় জড়িত...
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃপটুয়াখালীর গলাচিপায় গভীর নলকূপের অভাবে কয়েকটি পরিবারের লোকজন খালের পানিতে তৃষ্ণা নিবারণ করার খবর পাওয়া গেছে।...
-
নিজস্ব প্রতিবেদক রোগীদের স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কারণে একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ রেজাউল...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!