শিরোনামঃ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটডাউন, উপাচার্য অবাঞ্ছিত ঘোষণা!


জয় চন্দ্র শীল

‎বরিশাল

‎বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকেরা এবার উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে আগামীকাল সোমবার থেকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেছেন তাঁরা।

‎রোববার বিকেলে ‘সাধারণ শিক্ষক সমাজ’-এর ব্যানারে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে দুপুরে প্রক্টর রাহাত হোসাইন ও সিন্ডিকেটে শিক্ষক প্রতিনিধি সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তানভীর কায়সার পদত্যাগ করেন।

‎প্রক্টর রাহাত হোসাইন বলেন, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি নিয়ে উপাচার্যের টালবাহানার কারণে তাঁর সঙ্গে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইউম জানান, প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ৯ শিক্ষক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

‎শিক্ষকদের এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পিছিয়ে সেশনজটের শঙ্কা বেড়েছে।

‎শিক্ষকদের দাবি, গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, বিভাগীয় কমিশনার ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের বৈঠকে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এরপর শিক্ষকেরা পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে পাঠদানে ফিরেছিলেন। তাঁদের আশা ছিল ৮ মে ৯৪তম সিন্ডিকেট সভায় সমাধান হবে। কিন্তু শনিবারের সভায় বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয় এবং অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করে উপাচার্য নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

‎গত ২১ এপ্রিল থেকে পদোন্নতির দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়। প্রথমে কর্মবিরতি, পরে শাটডাউন এবং ২৮ এপ্রিল সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিলে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

‎উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, সিন্ডিকেট সভায় আগামী দুই মাসের মধ্যে অভিন্ন সংবিধি প্রণয়ন করে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতিতে প্রশাসন আন্তরিক। দুই শিক্ষকের পদত্যাগপত্র এখনো তাঁর কাছে পৌঁছায়নি বলেও জানান তিনি।

‎জানা গেছে, ২০১৫ সালের বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইউজিসির চিঠিতে তা স্থগিত করে ২০২১ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়। দেশের বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ওই নীতিমালায় যুক্ত হলেও বরিশালসহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় এখনো যুক্ত হয়নি। তাই আগে ২০২১ সালের নিয়োগ সংবিধি সিন্ডিকেটে পাস ও ইউজিসির অনুমোদনের পর পদোন্নতি দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?