বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নীতিমালা লঙ্ঘন ও জালিয়াতির অভিযোগ
বাউফল প্রতিনিধি সাগর দাস
পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ১৪বছর ধরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ পরীক্ষাকেন্দ্রের অদূরে নতুন পরিক্ষা কেন্দ্র স্থাপণের আবেদনে কেন্দ্র স্থাপণ নীতিমালা লঙ্ঘন ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম মোহাম্মাদ হারুনূর রশীদ। তিনি কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়, স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপণ করা হয়। এই মূল কেন্দ্রের ভেন্যু বা সহযোগী কেন্দ্র ছিল কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। তবে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ব্যয় কমিয়ে আনেত ভেন্যু কেন্দ্রে বাতিল করে দেয় বরিশাল শিক্ষা বোর্ড। মূল কেন্দ্রে ৭টি বিদ্যালয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ১২ আগস্ট হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন কেন্দ্রে স্থাপণের জন্য আবেদন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ হারুনূর রশীদ। চলতি মাসের ৭ তারিখ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ সুপরিশসহ ওই আবেদন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে প্রেরণ করেন।
আবেদন প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রে স্থাপণ নীতিমালা লঙ্ঘন, তথ্য গোপণ ও কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে না জানিয়ে তাদের নাম সংযুক্ত করে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি শিরিন।
এদিকে, আবদেনপত্র ও কেন্দ্রে স্থাপণ নীতিমালা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, যে প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রের আবেদন করবেন সে প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমপক্ষে ৫শ জন এবং যে পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্রের জন্য আবেদন করবেন সেই শ্রেণীতে কমপক্ষে ১শ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। তবে হায়াতুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ৪শ জনেরও কম এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮০ জন । একই সাথে আবেদনে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির প্রতিস্বাক্ষর থাকতে হবে, তবে আবেদতি আবেদনপত্রে সভাপতির কোনো প্রতি স্বাক্ষর নেই।
অপরদিকে, ৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হায়াতুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা নিতে ইচ্ছুক বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ্য করা হয়। ওই ৭টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬শ জন শিক্ষার্থী ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিবেন। তবে ওই বিদ্যালয়ে ৬শ জন পরীক্ষার্থীর ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ভৌত অবকাঠামোরও সংকট রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বিরোধ চলছে। গত কয়েক বছর বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি ফলাফল খারাপ হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। অপরদিকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জিপিএ ৫ পেয়েছে কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়। কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের ফলাফর বিপর্যের জন্য কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে দায়ী করা হচ্ছে। যেকারণে কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে থাকার পরেও হায়াতুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে স্থাপণের জন্য দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন।
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার বাল্যবন্ধু। এ কারণে বোর্ড চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে নতুন কেন্দ্র স্থাপণের পায়তারা করছেন তিনি।
কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি শিরিন বলেন,‘ ২০১২ সাল থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। হঠাৎ করে আমাদের পাশের বিদ্যালয় নতুন কেন্দ্রে স্থাপণের জন্য শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেন। সেই আবেদনপত্রে কালাইয়া বিদ্যালয়ও আগামী এসএসসি পরীক্ষা হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক বলে দাবি করা হয়। যা সম্পূর্ন মিথ্যা। আমাকে না জানিয়ে আমাদের বিদ্যালয়ের নাম দেওয়াটা বেআইনী। আমি এমন ঘৃণিত কাজের বিচার চেয়ে ইউএনও মহোদয়ের কাছে লিখিত আবেদন করেছি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ হারুনূর রশীদ বলেন, যথাযথ নিয়ম মেনে কেন্দ্রের জন্য আবেদন করেছি। অধিকাংশ বিদ্যালয় আমাদের সাথে একমত। কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম দিয়েছি, তবে তিনি তো স্বাক্ষর করেনি। তাদের সমস্যার কিছু নাই।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালেহ আহমেদ বলেন,‘ লিখিত পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এবিষয়ে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন,‘ কেন্দ্রের জন্য আবেদন করতেই পারে। আমরা সব বিষয় তদন্ত করে ব্যবস্থা করবেন।##,