শিরোনামঃ

বরিশালে মান্তাদের চিকিৎসায় ও ওষুধ দেওয়ার আশ্বাস ডাক্তার ও ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারগুলোর

জলেভাসা মান্তা জনগোষ্ঠীর জন্য বিনা মূল্যে ওষুধ, চিকিৎসাসেবা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বরিশালের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধ কোম্পানি। পাশাপাশি যোগ্যতা অনুযায়ী মান্তা তরুণ-তরুণীদের চাকরির সুযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে একটি প্রতিষ্ঠান।


বৃহস্পতিবার বরিশালের একটি হোটেলে ইয়ুথনেট গ্লোবাল ও দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন ‘মান্তাকানেক্ট’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব আশ্বাস দেওয়া হয়।


সভায় মান্তা জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, স্বাস্থ্যসেবা পেতে তাদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এবং তাদের জন্য সহজলভ্য ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।


নদী ও জলাভূমিকে ঘিরে জীবনযাপনকারী মান্তা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের অন্যতম প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সেবা ও নাগরিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের এখনও নানা ধরনের বঞ্চনার মুখোমুখি হতে হয়। এই জনগোষ্ঠীর ডিজিটাল শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ‘মান্তাকানেক্ট’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ইয়ুথনেট গ্লোবাল ও দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন।


মতবিনিময় সভায় রেফকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিরুল আলম বলেন, “আমি এই প্রথম মান্তাদের জীবনের গল্প শুনলাম। তাদের বাস্তবতা সম্পর্কে আগে এভাবে জানার সুযোগ হয়নি। এই জনগোষ্ঠীর জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”


আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “মান্তাদের নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এসে আমি খুবই আনন্দিত। মান্তা জনগোষ্ঠীর কেউ আমাদের প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা নিতে এলে আমরা তাদের সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করব।”


পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিএম মো. মোশারফ হোসেন বলেন, “আমি এতদিন মনে করতাম মান্তারা বেদে জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। আজ তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর আমার ধারণা পরিবর্তন হয়েছে।”


তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী কোনো মান্তা তরুণ-তরুণী চাকরির জন্য এলে তার যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করব। পাশাপাশি মান্তাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সর্বোচ্চ ছাড় নিশ্চিত করতে বরিশালের অন্যান্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেব।”


ইয়ুথনেট গ্লোবালের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান শুভ বলেন, “মান্তা জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা শুধু কোনো একটি প্রকল্প বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের সম্মিলিত সামাজিক দায়বদ্ধতা।”


তিনি বলেন, “মান্তাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই মতবিনিময়ের মাধ্যমে আমরা শুধু কিছু সেবা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি নয়, বরং মান্তাদের পাশে দীর্ঘমেয়াদে একটি সহযোগিতামূলক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চাই।”


সভায় বরিশালের বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল, ল্যাবএইড, মেডিনোভাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।


সভায় অংশ নেওয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মান্তা জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সহায়তা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।


আয়োজকেরা জানান, বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মান্তা জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করার পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণে ‘মান্তাকানেক্ট’ প্রকল্পের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?