শিরোনামঃ

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কুয়াকাটায় ৩১ বছরের বসতভিটা দখলের চেষ্টা, অবরুদ্ধ পরিবার!

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে ভোগদখলীয় একটি বসতবাড়ি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রেখে প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখানোর দাবি করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) [২০২৬] কুয়াকাটার মুছল্লিয়াবাদ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ভুক্তভোগী মো. সেলিম মুন্সী এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এই অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি নিজের ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।আদালতের আদেশ অমান্য ও বহিরাগতদের তাণ্ডব:লিখিত বক্তব্যে সেলিম মুন্সী জানান, ১৯৯৫ সালে এসএ খতিয়ানমূলে জমিটি কিনে তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে সরকারি জরিপে তার নামে বিএস ১১২২ নম্বর খতিয়ানের ৪০৯১ নম্বর দাগে চূড়ান্ত রেকর্ড প্রকাশিত হয়। এই জমিতেই গত ৩১ বছর ধরে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন।সম্প্রতি এই জমি নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে তিনি কলাপাড়া সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত গত ২ সেপ্টেম্বর বিবাদী মো. জাহিদুর ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে ওই জমির ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আদালতের এই স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকালে জাহিদুর ইসলাম সুমন বেশ কিছু বহিরাগত ক্যাডার ও লাঠিয়াল বাহিনীকে সাথে নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। তারা পুরো বাড়িটি ঘিরে ফেলে ভেতরের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।নেপথ্যে কুখ্যাত ‘প্রতারক চক্র’:সংবাদ সম্মেলনে সেলিম মুন্সী আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁশ করেন। তিনি দাবি করেন, কুয়াকাটায় পর্যটকদের সাথে প্রতারণার অভিযোগে সম্প্রতি একটি শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে যে চক্রটির নাম উঠে এসেছিল, সেই চক্রের সদস্যরাও এই জমি দখলের সাথে জড়িত। ওই কথিত চক্রের মূলহোতা সুমন এখন জাহিদুর ইসলামের পক্ষ নিয়ে সেলিম মুন্সীর পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে।আতঙ্কে কাঁপছে শিশুরা, অসুস্থ বৃদ্ধরা:কান্নাজড়িত কণ্ঠে সেলিম মুন্সী বলেন, "বাইরে অস্ত্রধারী ও বহিরাগতদের মহড়া দেখে ঘরের ভেতর আমার ৪ ও ৯ বছরের দুই নিষ্পাপ নাতি আতঙ্কে অনবরত কান্নাকাটি করছে। ঘরে আমার অসুস্থ স্ত্রী এবং বৃদ্ধ বাবা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আমরা এখন ঘরের বাইরে বের হতে পারছি না।"তিনি আরও অভিযোগ করেন, আইনি প্রতিকার চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদী পক্ষ তার ছেলের নামে চাঁদাবাজি ও দুদকের মামলাসহ পুরো পরিবারকে ৫টি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছে। এই ঘটনায় গত ৯ সেপ্টেম্বরই মহিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে (যার নম্বর ৩৭৮)।সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি:সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে সেলিম মুন্সী সংবাদকর্মীদের অনুরোধ করেন তারা যেন সরেজমিনে এসে এই বর্বরতার সত্যতা উন্মেচন করেন। একই সাথে তিনি পটুয়াখালীর জেলা পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদুর ইসলাম সুমনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। (তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে)।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?