আহসান হাবিব মোল্লার অপকর্ম ও দুর্নীতিতে ধ্বংসের পথে জিপিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলাধীন ৪নং দুধল ইউনিয়নের অন্তর্গত সুন্দরকাঠী গ্রামে অবস্থিত গোমা পিলখানা সুন্দরকাঠী (জিপিএস) মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৭ সালে গ্রামবাসির প্রচেষ্টায় বেসরকারীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০০ সালে পাঠদান স্বীকৃতি পায়। বিদ্যলয়টি ২০১৯ সালে এম.পি.ও ভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে বিদ্যালয়ে অত্যন্ত সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। গ্রামবাসী জানান যে, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্বে নিয়োজিত জনাব আহসান হাবিব মোল্লা নিজ স্বার্থের জন্য স্কুলটিকে আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। হাবিব মোল্লার শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তার বি এড সার্টিফিকেট জাল হওয়ার কারণে সরকার তাকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে এমপিও না দিয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে এমপিও দিয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়ে উপযুক্ত প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী প্রধান শিক্ষককে বাদ দিয়ে অবৈধভাবে হাবিব মোল্লা বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। প্রধান শিক্ষক হিসাবে বহাল থাকা নিয়ে বরিশাল বোর্ড থেকে তাকে সোকজ করা হয়েছিল। তিনি তার আপন ছোট ভাই ও বড় ভাইকে পালাক্রমে স্কুলের সভাপতি বানিয়ে তার ছোট ভাইয়ের বউ ও চাচাতো ভাই সহ পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনকে অবৈধ নিয়োগের মাধ্যমে স্কুলে চাকরি দিয়ে স্কুলকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বানিয়েছেন।
আহসান হাবিব মোল্লা নিজস্বার্থ চরিতার্থ করা এবং বেসরকারিভাবে প্রধান শিক্ষক হিসাবে স্কুলে টিকে থাকার জন্য জানুয়ারি/২০২২ সালে সরকারের অনুমোদন ব্যতিত জিপিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিকে প্রতিষ্ঠিত স্থান থেকে নিজ পৈত্রিক সম্পত্তিতে স্থানান্তর করেন। গ্রামবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল স্থানান্তরের বিষয়ে বরিশাল বোর্ড কর্তৃক তদন্ত করা হয় এবং অবৈধভাবে স্কুল স্থানান্তরের বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে স্কুলটিকে পূর্বের স্থানে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা প্রদান কর হয়। আহসান হাবিব মোল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আদেশ পালন না করে সরকারের উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট দাখিল করেন। ২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে উক্ত রিটের রায় হয়। বর্ণিত রায়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ২২.০২.২০২২ তারিখের আদেশ বহাল রাখা হয়েছে। অর্থ্যাৎ পূর্বের নির্ধারিত স্থানে বিদ্যালয়ের পাঠদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম চলমান রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে হাবিব মোল্লা আপিল বিভাগে উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে আপিল বিভাগ ১ লক্ষ টাকা জরিমানাসহ তার আপিল খারিজ করে দেয়। বর্তমানে স্কুলের প্রতিষ্ঠিত স্থানে পাঠদান কার্যক্রম চলমান আছে। কিন্তু আহসান হাবিব মোল্লা বর্তমানে হাইকোর্ট, আপিল বিভাগের রায় ও সরকারের আদেশ অমান্য করে বিদ্যালয়টিকে তার বাড়ির কাছে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্রের লিপ্ত আছেন। বিদ্যালয়টিকে তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে নির্মিত ভবনে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন সময় শিক্ষকদেরকে হুমকি দিচ্ছেন। আহসান হাবিব মোল্লা তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে স্থাপিত ভবনে স্কুলটিকে স্থানান্তরের লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বাধ্য করার জন্য তাদের বেতন বন্ধ করে দিবেন মর্মে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন যা গর্হিত কাজ এবং আইনের ব্যত্যয় মর্মে প্রতীয়মান হয়। এছাড়া, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মাঝে স্কুল স্থানান্তরের বিষয় প্রচার করে যাচ্ছেন।
হাবিব মোল্লা ও তার ভাই মিলে স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারীদের কাছ থেকে ৬/৭ লক্ষ টাকা নিয়ে তাদের নিয়োগ দিয়েছেন। স্কুলে যাদেরকে শিক্ষক হিসাবে চাকরি দেয়া হয়েছে ১ জন ব্যতিত অন্য কারো সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা নাই। বিদ্যালয়ে এখনো ৫ জন শিক্ষকের পদ খালি কিন্তু হাবিব মোল্লা উক্ত শিক্ষক নিয়োগের জন্য NTRCA তে চাহিদাপত্র দিচ্ছেনা। টাকার বিনিময়ে নিয়োগকৃত অযোগ্য শিক্ষক দিয়ে স্কুল চালাচ্ছেন যা বিদ্যালয়ের শিক্ষার অন্তরায়। আহসান হাবিব মোল্লা একজন ঘাতক এবং অপরাধি হিসাবে এলাকায় পরিচিত। তিনি গোমা গ্রামের আলোচিত জাবের হত্যা মামলার এজহারভুক্ত ১ নম্বর আসামী। তার নামে স্কুলের চেক জালিয়াতিসহ আন্যান্য মামলা রয়েছে। তিনি জাতীয় পার্টির বাকেরগঞ্জের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। জাতীয় পার্টির ততকালীন এমপি নাসরিন জাহান রত্নার দাপটে জাবের হত্যা মামলা থেকে জাবিন নেন। বর্তমানে মামলাটি বরিশাল জেলা জজ কোর্টে চলমান রয়েছে।
বিদ্যালয়ের দাতা ও শিক্ষক- কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, হাবিব মোল্লা স্কুলের নামে আসা টিউশন ফি এবং স্কুলের অনুদানের প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
এছাড়া, আহসান হাবিব মোল্লা জি পি এস স্কুলের এমপিও নবায়নের জন্য ব্যাংকে ডিপোজিটকৃত ৫০ হাজার টাকা সহকারি প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে বেআইনিভাবে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। বিদ্যালয়ের এমপিও নবায়নের জন্য নির্ধারিত টাকা স্কুলের নামে ব্যাংক একাউন্টে ডিপোজিট করে রাখার নির্দেশনা থাকলেও হাবিব মোল্লা স্কুল নবায়নের উক্ত টাকা বেআইনিভাবে আত্মসাৎ করেন। যা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি বিদ্যালয় থেকে আয়ের টাকা থেকে শিক্ষক কর্মচারীদের ১ টাকাও দেন না এবং কোন হিসাবও দেন না। বরং তিনি কর্মরত শিক্ষকদের থেকে ধার হিসাবে টাকা নিয়ে তা আর ফেরৎ দেন না। এলাকাবাসী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক- কর্মচারী হাবিব মোল্লার বিষয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে একজন উপযুক্ত প্রধান শিক্ষক স্কুলে নিয়োগের জন্য সরকারের কাছে আবেদন যানাচ্ছেন।