শিরোনামঃ

ভোলায় বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস পালিত




ভোলা প্রতিনিধি।।



সতর্কতা ও শিক্ষা বাঁচাতে পারে প্রান “Your Story Can Save a Life” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভোলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে “বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস ২০২৫”। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। পরে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ভোলার যৌথ আয়োজনে এবং পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সহযোগিতায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।



আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ভোলা জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আজাদ জাহান। 



এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: বেলাল হোসেন। ভোলা জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোহাম্মদ  আখতার হোসেন, আইসিবিসি প্রজেক্টের সহকারী প্রকল্প ব্যবস্থাপক এটিএম আজিমুজ্জামান, প্রগাম কো অর্ডিনেটর হারুন উর রশীদ।



এসময় বক্তিরা  বলেন, “শিশুদের প্রাণহানি রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাঁতার শিক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি শিশুর প্রাথমিক বিকাশ ও সুরক্ষায় আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস দরকার।” সমাজভিত্তিক সমন্বিত শিশুযত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ ও সুরক্ষা এবং সাঁতার সুবিধা প্রদান প্রকল্পের আওতায় এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুলের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যারা পানিতে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি এবং তা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা গ্রহণ করে।



এসময় জানানো হয়, বাংলাদেশে সিআইপিআরবি এর এক গবেষনায় জানা যায় প্রতি বছর আমাদের দেশে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। গড়ে প্রতি দিন ৪০জন শিশু এবং প্রতি ঘন্টায় ২জন করে শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। ইউনিসেফ এর এক বিবৃতিতে জন্য যায় প্রতি বছর প্রায় ১৪ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু পরোপুরি রোধ করা সম্ভব। পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর জন্য আমরা তিনটি বিষয়কে সমসময় জোর দিয়েছি। এই তিনটি কৌশল হলো ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য শিশুযত্ন কেন্দ্র স্থাপন, ৬ থেকে১০ বছর বয়সী শিশুদের সাঁতার শেখানো এবং নিরাপত্তাবুকি হ্রাস করার পদ্ধতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।



এমন বাস্তবতার প্রেক্ষিতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সঠিক ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভোলা জেলার তিনটি উপজেলায় (ভোলা সদর, লালমোহন ও মনপুরা) মোট ৫০টি সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ২০হাজার ২৬২ জন শিশুকে সাঁতার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। ভোলা সদর উপজেলায় ২০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩টি সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সাঁতার কার্যক্রম চলমান আছে এবং ১০টি মাচা তৈরীর কাজ চলমান আছে বাকী মাচা পর্যায়ক্রমে তৈরী করা হবে। লালমোহন উপজেলায় ২০টি সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ২টি মাচায় সাঁতার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান আছে এবং ১টি মাচা তৈরীর কাজ চলমান আছে বাকী মাচা পর্যায়ক্রমে তৈরী করা হবে। মনপুরা উপজেলায় ১০টি সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ২টি মাচায় সাঁতার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান আছে এবং ১টি মাচা তৈরীর কাজ চলমান আছে বাকী মাচা পর্যায়ক্রমে তৈরী করা হবে। বর্তমানে ২৬ জুন ২০২৫  থেকে তিনটি উপজেলায় জীবন রক্ষাকারী সাঁতার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়ে চলমান আছে এ পর্যন্ত এক হাজার  শিশুকে জীবন রক্ষাকারী সাঁতার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকী শিশুদের জীবন রক্ষাকারী সাঁতার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।



তারা আরও জানান, ভেলা জেলার তিনটি উপজেলায় ৫০০টি সমাজভিত্তিক সমন্বিত শিশুযত্ন কেন্দ্র চলমান আছে। যেখানে ভোলা সদর উপজেলায় ২০০টি, লালমোহন ১৫০টি ও মনপুরা ১৫০টি। যার আলোকে ভোলা জেলায় শিশুযত্ন কেন্দ্রের আওতায় এক থেকে পাঁচ  বছরের কম বয়সি মোট ভর্তিকৃত ১২ হাজার ৫০০ জন শিশু রয়েছে এরমধ্যে ভোলা সদর উপজেলায় শিশুযত্ন কেন্দ্রের আওতায় মোট ভর্তিকৃত শিশু ৫,হাজার জন, লালমোহন মোট ভর্তিকৃত শিশু ৩ হাজার ৭৫০ জন, মনপুরা মোট ভর্তিকৃত শিশু ৩ হাজার ৭৫০ জন। এ সকল কেন্দ্রে প্রতিমাসে অভিভাবক সতা, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা, ক্লাস্টার সভা পরিচালনা করা হয় এবং মাসিক প্রতিবেদন তৈরী করা হয়। এখানে ৯ টা থেকে ২টা পর্যন্ত শিশুরা ছড়া গান, গল্প, খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের মানসিক বিকাশ ঘটানো হয়ে থাকে।



অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার কমাতে জাতীয় পর্যায়ে এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?