শিরোনামঃ

টুঙ্গিপাড়ায় বিদ্যালয়ের ফ্যান জানালা বিনামূল্যের বই ও খাতা বিক্রির অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বিদ্যালয় বন্ধের দিনে নষ্ট ফ্যান, পরিত্যক্ত ভবনের জানালা, বিনামূল্যের বই ও খাতা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক এবং দপ্তরির বিরুদ্ধে| রেজুলেশন বা টেন্ডার না করেই এগুলো বিক্রি করা হয়েছে|


তবে অভিযুক্তদের দাবি প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে তারা এগুলো বিক্রি করেছেন| অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিপদ ভঞ্জন অধিকারী ও দপ্তরি গণেশ টিকাদার|


গত শুক্রবার (২৯ মে) ওই বিদ্যালয়ের নষ্ট ৪টি ফ্যান, পরিত্যক্ত ভবনের অন্তত ২০টি লোহার জানালা বিনামূল্যে বিতরণের বই ও পরীক্ষার খাতা বিক্রি করে দেয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী| বিদ্যালয় খোলার পর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা|


জানাগেছে, বিদ্যালয় বন্ধের দিনে গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকটি পুরাতন ফ্যান ও পরিত্যক্ত ভবনের জানালা খুলে নিয়ে যায় সহকারী শিক্ষক বিপদ ভঞ্জন অধিকারী ও দপ্তরি গণেশ টিকাদার| পরে তারা সেগুলো বিক্রি করে দেন। এছাড়া বই ও খাতাও বিক্রি করেছেন| পরীক্ষার খাতা অন্তত ১ বছর সংরক্ষণ করার বিধান রয়েছে| কিন্তু ২৫ সালের পরীক্ষার খাতা এক বছর সংরক্ষণ করে, ২৭ সালের বিক্রি করা যায়| এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষের বই বিতরণ করার সময় ৬’শ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পুরনো শিক্ষাবর্ষের বই নিয়ে নেয়া হয়| ওই সব পুরাতন বইও বিক্রি করা হয়েছে|


অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক বিপদ ভঞ্জন অধিকারী বলেন, প্রধান শিক্ষক মিল্টন তালুকদার আমাকে ফোন করে বইখাতা, ফ্যান ও জানালা বিক্রি কারার নির্দশে দেন। এসময় তিনি বলেন দপ্তরি আর আপনি সামনে থেকে এগুলো বিক্রি করেন| তখন প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে বইখাতাসহ নষ্ট ৪টি ফ্যান ও পরিত্যাক্ত ভবনের জানালা খুলে ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে|


দপ্তরি গণেশ টিকাদার বলেন, আমি সামান্য পোস্টে চাকুরী করি| আমি নিজে কখনো এগুলো বিক্রি করার অধিকার রাখি না| প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে এগুলো বিক্রি করেছি| এ সময় সহকারী শিক্ষক বিপদ ভঞ্জন অধিকারী স্যার উপস্থিত ছিলেন|


এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মিল্টন তালুকদার বলেন, শুধুমাত্র পুরাতন বইখাতা বিক্রি করতে বলা হয়েছিলো দপ্তরিকে| কিন্ত তার সাথে ফ্যান ও পরিত্যক্ত ভবনের জানালা বিক্রির বিষয়ে জানি না| তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেবেন এমন প্রশ্নে কোন উত্তর না দিয়ে, বিদ্যালয় ত্যাগ করেন প্রধান শিক্ষক মিল্টন তালুকদার|


টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম তালুকদার বলেন, বই খাতা, ফ্যান ও জানালা বিক্রি করতে অবশ্যই টেন্ডার দিতে হবে| যদি শুধুমাত্র সামান্য কিছু বইখাতা বিক্রির উপযোগী হয় সেটা রেজুলেশন করলেই হয়| কিন্তু রেজুলেশন বা টেন্ডার ছাড়া এগুলো বিক্রির সুযোগ নেই| এখানে স্কুলের মালামাল বিধি লংঘন করে বিক্রি করা হয়েছে| বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে| #

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?