- প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৬:৫৮ পিএম
তাইওয়ানে আনিসুরের মৃত্যু, দেশে মরদেহের অপেক্ষায় দুই সন্তান, সরকারের সহযোগিতা কামনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে সুদূর তাইওয়ানে পাড়ি জমিয়েছিলেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল গ্রামের মো. আনিসুর রহমান (৫২); কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন তিনি। নিউ তাইপেই সিটির একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে তাঁর মরদেহ।
মৃত আনিসুর রহমানের পাসপোর্ট নম্বর বি০০৩৭৩৩৪৭। তাঁর বাবার নাম আবুল বাসার মুন্সী এবং মায়ের নাম ফিরোজা বেগম।
অন্যদিকে, দেশে বাবার মরদেহের অপেক্ষায় দিন কাটছে দুই সন্তানের। স্বামীকে শেষবারের মতো দেখতে চান স্ত্রী শিলা আক্তারও। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আনিসুরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে পারছে না পরিবার।এ অবস্থায় সরকারের জরুরি সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনেরা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ অক্টোবর সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে আনিসুর রহমানকে নিউ তাইপেই সিটির ফু জেন ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বর্তমানে তাঁর মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।
চলতি বছরের ২২ জুন জীবিকার সন্ধানে ট্যুরিস্ট ভিসায় তাইওয়ানে যান আনিসুর।সেখানে অবস্থানকালে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন হারানোর বেদনার পাশাপাশি মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অনিশ্চয়তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
আনিসুরের স্ত্রী শিলা আক্তারের দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ে জুম্মী রহমান এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছেলে জারিফ ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই তাঁর মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
স্বামীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সহযোগিতা চেয়ে সোমবার (২ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন শিলা আক্তার।
এদিকে আনিসুরের বড় ভাই নাজমুল হক, মেজ ভাই আজিজুর রহমান ও ছোট ভাই আফজালও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাঁরা বলেন, নিজেদের উদ্যোগে বিদেশ থেকে ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁদের নেই। সরকারের সহযোগিতা না পেলে ভাইয়ের মুখ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন তাঁরা।
আবেদনে শিলা আক্তার উল্লেখ করেছেন, তাইওয়ানে অবস্থানরতঃ আনিসুরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইয়াং জিয়ান-কাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁর মৃত্যু ও মরদেহ সংরক্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। মরদেহ দেশে পৌঁছালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি তা গ্রহণ করবেন বলেও জানিয়েছেন।
প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দ্রুত ও মানবিক সহযোগিতা কামনা করেছেন শোকাহত স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনেরা। #
এই বিভাগের আরো খবর
-
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে সুদূর তাইওয়ানে পাড়ি জমিয়েছিলেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল গ্রামের মো. আনিসুর রহমান (৫২);...
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:পটুয়াখালীর দশমিনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন ভাইয়ের তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার,...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!