শিরোনামঃ

পদ নয়, প্রাধান্য মানুষের 'ভাই' সম্বোধনেই আস্থা গড়ছেন দশমিনার ইউএনও

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই সরকারি কর্মকর্তাদের সম্বোধন নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা যায়। কোথাও ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ না বলায় ক্ষুব্ধ হওয়ার ঘটনা, আবার কোথাও ‘ভাই’ বলে ডাকায় আপত্তির অডিও-ভিডিও ভাইরাল হয়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। এসব ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হলেও এর সম্পূর্ণ বিপরীত এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা হৃদয়।

সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা কিশোর, তরুণ, প্রবীণ, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে আন্তরিকভাবে 'ভাই' বলে সম্বোধন করেন। শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষও তাকে ‘ভাই’ বলে ডাকলে তিনি সেটিই স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে গ্রহণ করেন। যদিও পদমর্যাদার কারণে অধিকাংশ মানুষ তাকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন, তবুও তিনি নিজে কাউকে ‘ভাই’ বলতে ভুল করেন না।

চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল দশমিনা উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রশাসনে মানবিক ও সেবামুখী পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। তার কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা মানুষের জন্য নেই অযথা আনুষ্ঠানিকতা। অনুমতি নিয়ে কক্ষে প্রবেশের বাধ্যবাধকতা নেই। প্রতিদিনই নানা সমস্যার সমাধান খুঁজতে মানুষের ভিড়ে মুখর থাকে ইউএনওর অফিস।

সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, তিনি কোনো কাজ অযথা ফেলে রাখেন না। সমস্যার কথা শুনেই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। অনেক সময় সরকারি অফিসের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও কার্যালয়ে অবস্থান করে সাধারণ মানুষের সেবা দিয়ে থাকেন।

শুধু প্রশাসনিক কাজেই নয়, তথ্যপ্রবাহ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও নিয়েছেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে 'ইউএনও মিডিয়া সেল' নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করেন। সেখানে সাংবাদিকরা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ফলে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বেড়েছে বলে মনে করেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।


সেবাপ্রত্যাশী সোহেল বলেন, "আমি যখন ইউএনও স্যারের কাছে সেবা নিতে গেছি, তিনি আমাকে 'ভাই' বলে সম্বোধন করেছেন। কোনো কাজ নিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই করে দেন। দল-মত নির্বিশেষে তিনি সবার প্রিয় মানুষ হয়ে উঠেছেন। সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে সবসময় ছুটে বেড়ান। আমরা চাই, তার এই ভালো ব্যবহার ও জনবান্ধব কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকুক।"


এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও মো. মাহমুদ হাসান মৃধা হৃদয় বলেন, "আমি সাধারণ মানুষকে 'ভাই' ডাকতে পছন্দ করি। মানুষ যেভাবে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, সেভাবেই আমাকে ডাকুক—এটাই চাই। কেউ আমাকে 'ভাই' বললে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের আরও কাছাকাছি থাকতে চাই, যাতে তাদের সমস্যাগুলো ভালোভাবে বুঝে দ্রুত সেবা দিতে পারি। আমি বিশ্বাস করি, প্রশাসনের প্রতিটি কাজে জবাবদিহিতা থাকা উচিত। আমি ভুল করলেও সাংবাদিকরা লিখবেন—এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।"


দশমিনাবাসীর মতে, পদমর্যাদার গণ্ডি পেরিয়ে মানবিক আচরণ, সহজ যোগাযোগ এবং দ্রুত সেবাদানের মাধ্যমে অল্প সময়েই মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা হৃদয়। প্রশাসনে এমন ইতিবাচক দৃষ্টান্ত সরকারি সেবার প্রতি মানুষের বিশ্বাস আরও দৃঢ় করবে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?