লালমনিরহাটে শিশু হত্যার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস ত্রাণমন্ত্রীর


রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।


লালমনিরহাটের আদিতমারীতে হত্যার শিকার সাত বছরের শিশু নন্দিনীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নন্দিনীর বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন তিনি।


এ সময় নন্দিনীর বাবা-মা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, নন্দিনীর হত্যা একটি নির্মম, নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। যারা এমন একটি নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করতে পারে, তারা মানুষ নয়, নরপিশাচ।


তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।


ত্রাণমন্ত্রী জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।


ঘটনার পর প্রশাসনের গাড়ি ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, প্রশাসন সেখানে গিয়েছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শান্তি রক্ষার জন্য। কিন্তু ফেরার পথে তাদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। যারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা চায় না, তারাই এসব ঘটনায় জড়িত।


তিনি দাবি করেন, নির্বাচিত সরকারকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।”


উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী। পরিবারের সদস্যরা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


ঘটনার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত বিধান চন্দ্রের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও জনতার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ১৮ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশের আটটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?