- সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
- প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৬ ০১:৩৪ পিএম
গলাচিপায় পানি নিষ্কাশনের জন্য কাটা বাঁধই এখন দুর্ভোগের কারণ, পানিবন্দী ৩ হাজার পরিবার
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া কামারখালী এলাকার একটি ভাঙা বাঁধ এখন কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য কাটা হয়েছিল যে বাঁধ, সেই স্থান দিয়েই বর্তমানে প্রতিদিন জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অন্তত ছয় হাজার পরিবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে অতিবৃষ্টির কারণে ফসলি জমিতে পানি জমে গেলে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি পানি অপসারণের জন্য একটি সড়ক কেটে দেন। এতে সাময়িকভাবে পানি নিষ্কাশন হলেও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদের এক লাখ ৭০ হাজার টাকার বরাদ্দে সড়কটি সংস্কার করা হয়।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তা কাটার পর থেকেই নতুন সমস্যার সূত্রপাত হয়। বর্তমানে প্রতিদিন দুই দফা জোয়ারের পানি ওই স্থান দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। ফলে বাড়িঘর, রাস্তা, পুকুর, মাছের ঘের এবং ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে একটি ট্রলি রাস্তার ওই অংশে আটকে পড়লে পানির তীব্র চাপে সড়কের অংশটি সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এরপর থেকেই জোয়ারের পানি অবাধে প্রবেশ করে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এক বাসিন্দা বলেন, “রাস্তা কাটার পর থেকেই সমস্যা শুরু হয়েছে। এখন দিনে দুইবার জোয়ারের পানি ঢুকে পুরো এলাকা পানির নিচে চলে যায়। আমরা চরম দুর্ভোগে আছি।”
এদিকে একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছোনখোলা গ্রামের কালু হাওলাদারের বাঁধও এক সপ্তাহ আগে ভেঙে যায়। এতে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে বাঁধ সংস্কারের চেষ্টা করলেও তা টেকেনি।
স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যচাষিরা জানান, জোয়ারের পানিতে পুকুর ও মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ায় মাছ ভেসে যাচ্ছে। এতে তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ীভাবে বাঁধ সংস্কার না করা হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চললেও স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, দ্রুত টেকসইভাবে ভাঙা বাঁধ ও সড়ক সংস্কার করে এলাকাকে জোয়ারের পানির কবল থেকে রক্ষা করা হোক এবং তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো।
এই বিভাগের আরো খবর
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চরলতা এলাকায় সরকারি খাসজমি ও খাস খাল দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!