শিরোনামঃ

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে এক মাসের বিলম্ব, আগরপুর ডিগ্রি কলেজের সাময়িক বরখাস্ত শিক্ষককে ঘিরে নতুন বিতর্ক



বিক্রম আকাশ (গৌরনদী) প্রতিনিধি:


বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের আগরপুর ডিগ্রি কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ।


কলেজ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ খসরুকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন প্রভাষক মোঃ সাইফুল ইসলাম, প্রভাষক মোঃ সাইদুল রহমান মল্লিক, প্রভাষক শারমিন আক্তার ও প্রভাষক মোঃ কাজী জামান।


তবে নির্ধারিত সাত কার্যদিবসের পরিবর্তে প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি ও প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্বের কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত কিংবা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ এবায়দুল হক শাহীন বলেন, সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও কলেজের পূজার ছুটির কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। কলেজ খোলার পর প্রতিবেদন হাতে পাওয়া যাবে। তদন্তের ফলাফল পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, তদন্তের নামে দীর্ঘসূত্রতা না করে নিরপেক্ষভাবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।


যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত


উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার দিবাগত রাতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের সরিকল বাজার এলাকায় এক গৃহবধূর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটক হওয়ার অভিযোগ ওঠে আগরপুর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে মারধর করেন বলে জানা গেছে।


স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই গৃহবধূর সঙ্গে প্রভাষকের পরিচয় হয় ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থী পড়ানোর সূত্র ধরে। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন।


ঘটনার পর ওই নারী তাদের মধ্যে প্রায় দুই মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া অসুস্থ স্বামীর সম্পত্তি স্ত্রীর নামে লিখে নেওয়ার বিষয়েও অভিযোগ উঠেছে। তবে সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত প্রভাষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে অধ্যক্ষ জানিয়েছেন।


এখন স্থানীয়দের প্রধান প্রশ্ন—সাত কার্যদিবসের তদন্ত এক মাসেও শেষ হলো না কেন? তদন্ত প্রতিবেদন কবে প্রকাশ করা হবে? আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?


সম্পাদনা-সংক্রান্ত পরামর্শ: সংবাদটি প্রকাশের আগে অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য নেওয়া এবং তদন্ত কমিটির প্রধানের বক্তব্য যুক্ত করা ভালো হবে। এতে সংবাদটির নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে নয়, অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?