- প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৪৬ পিএম
রাঙ্গাবালীতে খাসজমি দখলের প্রতিবাদে ভূমিহীনদের মানববন্ধন, বাধা দেওয়ার অভিযোগ
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চরলতা এলাকায় সরকারি খাসজমি ও খাস খাল দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় ভূমিহীন কৃষকরা। এ সময় কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে চরলতা এলাকার ভূমিহীন কৃষক ও স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে নামে-বেনামে ৬৭টি প্রাক্কলনের মাধ্যমে ১০৫ একর সরকারি খাসজমি একসনা ইজারা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫০০ একর সরকারি খাসজমি ও খাস খাল একটি প্রভাবশালী মহলের দখলে রয়েছে। এতে প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলো সরকারি জমির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় ভূমিহীন কৃষকদের অভিযোগ, এ অনিয়মের সঙ্গে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. ঈসা গাজী, কৃষক দলের সহসভাপতি বাহাউদ্দীন গাজী এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. দুলাল দালালসহ স্থানীয় কয়েকজন জড়িত।
ভুক্তভোগী কৃষক রশিদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলোকে না জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে ৬৭টি প্রাক্কলনের মাধ্যমে প্রায় ১০৫ একর সরকারি খাসজমি একসনা ইজারা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাট-ঘাট, খাল ও খাসজমি দখল এবং শালিস বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ওই চক্রের বিরুদ্ধে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চরলতা এলাকার প্রায় ৫০০ একর সরকারি খাসজমি প্রভাবশালীরা দখলে রেখেছেন। শুক্রবার এসব অনিয়মের প্রতিবাদে ভূমিহীন পরিবারগুলো মানববন্ধন করতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বাধা দিয়ে কর্মসূচি পণ্ড করার চেষ্টা করেন। তবে ভূমিহীনদের প্রতিবাদের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হন।
অভিযোগের বিষয়ে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ঈসা গাজী বলেন, রাঙ্গাবালী উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় থেকে ৬৭ জনের নামে ১০৫ একর খাসজমি একসনা ইজারা নেওয়া হয়েছে। তালিকায় নিজের নাম থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই তালিকায় তাঁর নিজের নাম নেই। এলাকার ৬৭ জনের নামে তরমুজ চাষাবাদের জন্য সরকারের কাছ থেকে জমি এনে দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় ভূমিহীন কৃষক মো. জাফর সিকদার ও আলম অভিযোগ করেন, সম্পূর্ণ গোপনে ও জালিয়াতির মাধ্যমে এসব জমি ইজারা নেওয়া হয়েছে। পরে স্থানীয় প্রকৃত ভূমিহীনদের জমি না দিয়ে বিভিন্ন এলাকার লোকজনের কাছে তরমুজ চাষের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি বা হস্তান্তর করা হচ্ছে।
তারা অবিলম্বে বিতর্কিত ইজারা বাতিল, সরকারি খাসজমি ও খাল উদ্ধার এবং প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলোর মধ্যে চাষাবাদ ও বসবাসের জন্য জমি বরাদ্দের দাবি জানান।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, চালিতাবুনিয়ার চরলতা এলাকার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। আবহাওয়া খারাপ থাকায় সেখানে যেতে পারেননি। তবে যেকোনো সময় খাসজমি উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করবেন।
এই বিভাগের আরো খবর
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চরলতা এলাকায় সরকারি খাসজমি ও খাস খাল দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!