শিরোনামঃ

ডুবন্ত ট্রলারের সঙ্গেই ভাসছে নিখোঁজ জেলেরা, উদ্ধার হওয়া আল আমিনের দাবি



গলাচিপা (পটুয়াখালী) 

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ছয় জেলের একজন আল আমিনকে জীবিত উদ্ধারের পর নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। উদ্ধার হওয়ার পর তিনি দাবি করেছেন, নিখোঁজ থাকা অন্য পাঁচ জেলে এখনো জীবিত থাকতে পারেন এবং তারা ডুবন্ত ট্রলারের সঙ্গেই ভেসে আছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য অবস্থানে উদ্ধার অভিযান জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।


উদ্ধার হওয়া জেলে আল আমিন উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের চান মিয়া হাওলাদারের ছেলে। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে ভোলার ঢালচর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে ভাসমান অবস্থায় ভোলার একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা তাকে উদ্ধার করেন। পরে চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তার চিকিৎসার তদারকি করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। 


আল আমিন জানান, গত ৫ জুলাই রাত প্রায় ১০টার দিকে বৈরী আবহাওয়ায় ১১ জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার ট্রলারটি ডুবে যায়। তখন তিনজন ট্রলারের ভেতরে ছিলেন, আর আটজন সাগরে ভেসে ওঠেন। তিনি, আক্কাস ও হারুন ডুবন্ত ট্রলারটি ধরে ভেসে ছিলেন।


তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ছয় জেলের মধ্যে তিনজন ট্রলার আঁকড়ে ধরে ছিলেন এবং বাকি তিনজন ট্রলারের ভেতরে ছিলেন। পরে প্রবল ঢেউয়ে ট্রলারের ভেতরে থাকা দুজন ভেসে যান, আর একজন বের হতে পারেননি। টানা তিন দিন ট্রলার ধরে ভেসে থাকার পর দূরে একটি ডুবচর দেখে তারা সেটিকে তীর ভেবে সাঁতরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে কোনো স্থলভাগ না থাকায় দুজন আবার ডুবন্ত ট্রলারে ফিরে গিয়ে সেটি ধরে ভাসতে থাকেন। আল আমিন আর ট্রলারে ফিরে যেতে না পেরে ডুবচরের কাছে আটকে পড়েন। পরে ভোলার একটি ট্রলার তাকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে।


তিনি আরও জানান, নিখোঁজ জেলেদের সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে তিনি প্রশাসনকে তথ্য দিয়েছেন। নিখোঁজ জেলেরা কাউয়ারচরের পশ্চিম দিকে হাসাখালি নামক স্থানে সাগরে থাকতে পারে যদি ট্রলার ছেড়ে না দেয়। দ্রুত ওই এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হলে তাদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


গজালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান জানান, বুধবার চরফ্যাশনের দুলাল মাঝির কাছ থেকে আল আমিন জীবিত উদ্ধারের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা বৃহস্পতিবার সকালে স্পিডবোটে সেখানে যান। পরে চিকিৎসা শেষে তাকে গলাচিপায় নিয়ে আসা হয়।


গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, আল আমিনের দেওয়া তথ্য নিখোঁজ জেলেদের সন্ধান করা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, অন্য জেলেরা জীবিত থাকতে পারেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। উদ্ধার হওয়া জেলেদের চিকিৎসাসহ সব ধরনের খোঁজ খবর আমরা রাখছি।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, উদ্ধার হওয়া জেলে আল আমিন নিখোঁজ অন্যদের অবস্থান সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়েছেন। সেই তথ্য যাচাই করে সম্ভাব্য এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 


উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে গলাচিপার ১১ জেলেসহ একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। পরদিন অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার ভাসামান অবস্থায় পাঁচজন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে তিনদিন পরে আল আমিনকে উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচ জেলে। তারা হলেন, হারুন হাওলাদার, এমাদুল, ফোরকান, সায়েম ও আক্কাস।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?