শিরোনামঃ

বরগুনায় স্কুলে অনুপস্থিত হাজিরা খাতা পূর্ণ বেতন তুলছেন শিক্ষক



বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ

বরগুনায় দেড় বছর বিদ্যালয়ে না যেয়েও নিয়মিত হাজিরা খাতায় উপস্থিতি ও বেতন নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বরগুনার আন্ধার মানিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জুয়েল মিয়ার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ে নেই শিক্ষক, অথচ হাজিরা খাতায় নিয়মিত উপস্থিতি! এমনকি প্রায় দেড় বছর ধরে বিদ্যালয়ে না এসেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। 


শিক্ষক সংকটের কারণে যেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা, সেখানে একজন সহকারী শিক্ষককে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের বাইরে রেখে অন্য দপ্তরের কাজে ব্যবহার করা কতটা যৌক্তিক এমন প্রশ্ন অভিভাবকদের মনে।


অভিযোগের সত্যতা জানতে বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১ টার দিকে আন্ধার মানিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে পাওয়া যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মো. জুয়েল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। তবে তাকে নাকি উপজেলা শিক্ষা অফিসের দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক প্রায় দের বছর আগে অবসরে যাওয়ার পর থেকেই পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে চারজন সহকারী শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। এর মধ্যে একমাত্র পুরুষ শিক্ষক জুয়েল মিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। যার ফলে  শিক্ষক সংকটে পাঠদান  আরও দুরাবস্থা হয়ে পড়েছে।


অভিভাবকদের অভিযোগ, একজন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানোর জন্য। কিন্তু তাকে বিদ্যালয়ে না রেখে উপজেলা শিক্ষা অফিসের কাজে ব্যবহার করায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এখানকার শিক্ষার্থীরা।


অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বলছেন শিক্ষক সংকটের মধ্যেও একজন শিক্ষককে অন্য দপ্তরের কাজে ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের দাবি, দ্রুত শিক্ষক জুয়েল মিয়াকে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে এনে নিয়মিত পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে।


তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে হাজিরা নিয়ে। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে হাজিরা খাতায় তার নিয়মিত উপস্থিতি দেখানো হচ্ছে? এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে মতে, অফিসে কম্পিউটার অপারেটর না থাকার কারনে, গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজ করানোর জন্য সহকারী শিক্ষক জুয়েল মিয়ার মাধ্যমে সে কাজগুলো করানো হচ্ছে ।


পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের জুয়েল স্যার অনেক দিন ধরে স্কুলে আসেন না। এ কারণে আমাদের ঠিকমতো ক্লাস হয় না। এখন যদি আমাদের নিয়মিত পড়ানো না হয়, তাহলে আমরা কীভাবে শিখব? আমাদের প্রধান শিক্ষকও নেই, আবার জুয়েল স্যারও স্কুলে আসেন না। আমরা চাই, আমাদের শিক্ষককে নিয়মিত স্কুলে ফিরিয়ে এনে ভালোভাবে পাঠদান করানো হোক।


অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মো. জুয়েল মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিসের প্রয়োজনে আমাকে এখানে এনেছে, আমার সরকার আমার উর্ধতন কর্মকর্তা, তারা বললে আবার আমি স্কুলে ফিরে যাবো। আমার কি করার আমাকে শিক্ষা কর্মকর্তারা যেখানে রাখবে সেইখানেই যেতে হবে। 


স্কুল ম্যানেজিং কমিটির নবগঠিত সহ-সভাপতি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের এখানে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা এর আগে স্কুলের বিষয়ে কোন ভূমিকা নিতে পারিনি। আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রায় দের বছর আগে অবসরে গেছেন।  এখন কাগজে কলমে দেখি চারজন শিক্ষক কিন্তু বাস্তবে দেখি তিনজন, এরমধ্যে একজন আবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেও থাকে অফিসের কাজে ব্যস্ত। আবার অন্যদের মধ্যে একজন ছুটিতে গেলে স্কুল একদম ফাঁকা।  আর একমাত্র পুরুষ শিক্ষক তাকে উপজেলা শিক্ষা অফিসে আটকে রেখেছে।  এখন স্কুলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে পড়েছে।  আমরা ঐ শিক্ষক'কে ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। 



এ বিষয়ে বরগুনা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা জেরিনা আক্তার বলেন, অফিসে কম্পিউটার ভিত্তিক কাজ করার মতো লোকবল না থাকায় প্রয়োজনীয় কাজগুলো জুয়েল মিয়াকে দিয়ে করানো হচ্ছে। এটাও কি নিয়ম ভিত্তিক করতে হবে? জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেন করছি সে কোন ফিডব্যাক দেননি। এখন আমি কোন উপর না পেয়ে জুয়েলের মাধ্যমে আমার অফিশিয়াল কাজগুলো করাই।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?