শিরোনামঃ

যশোরের ৬টি আসনেই জামায়াতের শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত



নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোরঃ

যশোরের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার গোপনীয় প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।


 প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন এবং সুশৃঙ্খল প্রচারণার মাধ্যমে তারা জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন।

প্রতিবেদনের মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

তৃণমূলের সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক: গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক বছরে প্রকাশ্য রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকলেও অভ্যন্তরীণভাবে জামায়াত তাদের ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলো পুনর্গঠন করেছে। তাদের এই "নীরব বিপ্লব" ভোটের মাঠে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সাধারণ ভোটারদের মনোভাব: প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দীর্ঘদিনের রেষারেষি এবং স্থানীয় কোন্দলের কারণে সাধারণ ও নিরপেক্ষ ভোটারদের একটি বড় অংশ জামায়াতের ‘ক্লিন ইমেজ’ ও ‘শৃঙ্খলার’ প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।

তরুণ ভোটারদের ঝোঁক: প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন এমন তরুণদের মাঝে জামায়াতের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রচারণা বেশ কাজ করছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি তরুণ ভোটারদের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

অভ্যন্তরীণ কোন্দলমুক্ত অবস্থান: অন্যান্য বড় দলগুলোতে মনোনয়ন নিয়ে দলীয় কোন্দল থাকলেও জামায়াতে একক প্রার্থী ও শৃঙ্খলা থাকায় তারা সাধারণ ভোটারদের আস্থা সহজেই অর্জন করছে।

আসনভিত্তিক সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ:

আসনগোয়েন্দা পর্যবেক্ষনযশোর-১ (শার্শা)সীমান্ত এলাকায় শক্তিশালী জনভিত্তি ও দীর্ঘদিনের সমাজসেবামূলক কাজ তাদের এগিয়ে রাখছে।যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা)এই আসনে জামায়াতের ভোট ব্যাংক ঐতিহাসিকভাবেই শক্তিশালী। বর্তমান পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে।যশোর-৩ (সদর)শহর এলাকায় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ভোটারদের একটি বড় অংশ জামায়াতের দিকে ঝুঁকছে।যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর)স্থানীয় কোন্দল কাজে লাগিয়ে জামায়াত এখানে ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।যশোর-৫ (মণিরামপুর)এটি জামায়াতের অন্যতম দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যেখানে তাদের জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।যশোর-৬ (কেশবপুর)এই আসনেও জামায়াতের নীরব ভোট এবং সুসংগঠিত প্রচারণায় অন্য দলগুলো চাপে রয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রের ভাষ্য: "মাঠ পর্যায়ের তথ্যানুযায়ী, জামায়াতের কর্মীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিভৃতে প্রচারণা চালাচ্ছে। এই সাইলেন্ট ভোটাররা যদি কেন্দ্রে যায়, তবে যশোরের ছয়টি আসনেই ফলাফল উল্টে যেতে পারে।"

এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য জানাজানি হওয়ার পর জেলার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। প্রধান দলগুলো এখন তাদের নির্বাচনী কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?