শিরোনামঃ

ভোটের দিনই নয়, নির্বাচন-পরবর্তী কয়েকদিন ও সর্বোচ্চ সতর্কতার আহ্বান নৌবাহিনী প্রধানের

 


সোহাগ হাওলাদার,বরগুনা:

ভোটের দিন ছাড়াও নির্বাচন-পরবর্তী দুই থেকে তিন দিন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি বলেছেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নির্বাচন শেষে অনেক সময় সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। যারা আশানুরূপ ফলাফল অর্জন করতে পারেন না, তারা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। তাই নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। 


বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্টের সার্বিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে হেলিকপ্টারযোগে বরগুনায় আসেন নৌবাহিনী প্রধান। 


মতবিনিময় সভায় অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সম্পর্ক অনেক বেশি সমন্বিত ও নিবিড়। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে নিয়মিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত দেড় বছর ধরে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার জাতীয় নির্বাচনের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। স্থানীয় প্রশাসন, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা এ কাজে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সর্বাত্মক সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। 


নির্বাচনী দায়িত্ব প্রসঙ্গে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন থেকে সাত দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তবে দেশের স্বার্থে গত ২০ জানুয়ারি থেকেই সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। উপকূলীয় অঞ্চলে নৌযান ও জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সব সংস্থার মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। 


প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বডি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তির সহায়তায় একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 


সোশ্যাল মিডিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। এসব বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে, যাতে গুজব বা ভুল তথ্যে প্রভাবিত হয়ে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়। 


মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নির্বাচনসংক্রান্ত খবর প্রচারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য যাতে প্রচার না হয়, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।


এ সময় নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান নৌবাহিনী প্রধান।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?