শিরোনামঃ

তীব্র আবাসন সংকটে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়



খুবি প্রতিনিধি: সৈয়দ জাওয়াদ হোসেন সামি


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি আবাসন সুবিধা। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হচ্ছে যা তাদের পড়াশোনা, নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৯ হাজার ১৪৭ জন। অথচ আবাসিক হলগুলোতে আসন রয়েছে মাত্র ২ হাজার ৯১৪টি। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি শিক্ষার্থী হল সুবিধার বাইরে। ছাত্রীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৬৩ শতাংশ এবং ছাত্রদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৩ শতাংশ এখনো হলের সিট না পেয়ে বাইরে বসবাস করছেন।


ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ খাবার, বিশুদ্ধ পানি, যাতায়াত এবং নিরাপত্তা সবকিছু নিয়েই প্রতিদিন লড়াই করতে হয়। উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের এক ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাইরে থাকতে গেলে মাসিক ভাড়া গুনতে হয়, তার সঙ্গে যুক্ত হয় নানা অনিশ্চয়তা। “সবচেয়ে বড় সমস্যা নিরাপত্তা। চুরি-ডাকাতির ভয় তো থাকেই, তার ওপর পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে,” বলেন তিনি।


একই ধরনের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন অপরাজিতা হলের অনাবাসিক আরেক শিক্ষার্থীও। তাঁর মতে, ক্যাম্পাসে থাকলে পড়াশোনার পরিবেশ যেমন ভালো থাকে, তেমনি নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়। কিন্তু সিট না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বাইরে থাকতে হচ্ছে, যা তাদের একাডেমিক মনোযোগে প্রভাব ফেলছে।


শুধু নিরাপত্তা নয়, অর্থনৈতিক চাপও বড় একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজিই ডিসিপ্লিনের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আদিব আলী খান বলেন, “তৃতীয় বর্ষে উঠেও হলে সিট পাইনি। বাইরে থাকতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়, যা অনেকের পক্ষেই কঠিন। নিরাপত্তার ঝুঁকিও বেশি চুরির ঘটনাও ঘটছে আশপাশে।”


বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি আরও তীব্র হয়েছে। ২০০৯ সালের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩টি নতুন ডিসিপ্লিন চালু হলেও একই সময়ে নতুন হল নির্মাণ হয়েছে মাত্র দুটি। সর্বশেষ ছাত্রীদের জন্য ২০১৬ সালে ‘বিজয়-২৪’ এবং ছাত্রদের জন্য ২০১৫ সালে ‘বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন হল’ চালু হয়। এরপর শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও আবাসন অবকাঠামো প্রায় স্থিরই রয়েছে।


বর্তমানে তিনটি ছাত্র হলে মোট আসনসংখ্যা ১ হাজার ৩৬৪ এবং দুটি ছাত্রী হলে ১ হাজার ৫৫০টি সিট রয়েছে। ফলে গড়ে প্রায় চারজন ছাত্রের জন্য একটি এবং তিনজন ছাত্রীর জন্য একটি আসন বরাদ্দের সুযোগ তৈরি হয়েছে যা বাস্তবে তীব্র প্রতিযোগিতা ও দীর্ঘ অপেক্ষার জন্ম দিচ্ছে।


ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী আত্রেয় চাকমা দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর হলে সিট পেয়ে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “হলে সিট পাওয়া যেন সোনার হরিণ পাওয়ার মতো। বাইরে থেকে পড়াশোনা করা খুবই কঠিন, বিশেষ করে যারা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসে তাদের জন্য।”


আবাসন সংকট নিরসনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় দাবি জানিয়ে আসছেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে ‘দাবি উত্থাপন মঞ্চে’ ৩৭ দফা দাবির মধ্যে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করাও ছিল অন্যতম।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন করে তিনটি ১০ তলা হল নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। এতে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর আবাসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কবে নাগাদ তা বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সময়সীমা নেই।


আরও কয়েকটা হল বাড়ানোর ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প) জমা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণের জন্য অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন, কিন্তু নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তা জটিল হয়ে আছে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?