শিরোনামঃ

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বরিশালে টানা আন্দোলন, রনি চাইলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ


সাকিব উল হক, 

বরিশাল প্রতিনিধি,রিপোর্ট৭১।


বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চলা অব্যবস্থা, দুর্নীতি ও চিকিৎসা সেবায় অবহেলার বিরুদ্ধে টানা ৫ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বরিশালের সাধারন ছাত্র-জনতা। আজ বেলা ১১টায় “স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলন” ব্যানারে বরিশালের অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে আয়োজিত হয় এই প্রতিবাদ সমাবেশ। যেখানে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ভুক্তভোগীরাও অংশ নিচ্ছেন।

এক আন্দোলনকারী বলেন “বরিশালের স্বাস্থ্যসেবা এখন ভগ্ন! আমাদের মৌলিক অধিকার হুমকির মুখে। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখন অব্যবস্থাপনা, দালাল সিন্ডিকেট আর দুর্নীতির আখড়া”

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে গেলে দালাল চক্র সক্রিয়ভাবে রোগী ভাগিয়ে নেয়। আয়া-বুয়া ও ট্রলিচালকরা টাকা ছাড়া কোনো সেবা দেয় না।

রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে ও ওয়ার্ডে পৌঁছাতে ২০০-৩০০ টাকা দাবি করা হয়।

হাসপাতালের নিজস্ব MRI, ICU, Cath Lab, এবং অন্যান্য টেস্ট সুবিধা থাকা সত্ত্বেও, দালাল ও বুয়াদের মাধ্যমে রোগী ও স্বজনদের জোর করে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এ পাঠানো হচ্ছে।


প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ২ জন ভুক্তভোগী জানান, দালাল ও আয়াদের মিথ্যাচার ও চাপের মুখে হাসপাতালের পরীক্ষাগার ব্যবহার না করে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বাধ্য করা হয়।

কেউ প্রতিবাদ করলেই,খারাপ ব্যবহারসহ,বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়।


আন্দোলনের মুখ মহিউদ্দিন রনি বলেন: “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই দুঃসহ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়।

আন্দোলনের জোরালো দাবিগুলো ছিলো:

-২৪ ঘণ্টা সব বিভাগে সরকারি চিকিৎসা নিশ্চিত,

-সিন্ডিকেট ও দালালমুক্ত হাসপাতাল,

-আধুনিক যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত,

-ট্রলিচালক ও আয়া-বুয়াদের জবাবদিহিতা,

-হাসপাতালের পরিচালনায় নাগরিক সমাজের অন্তর্ভুক্তি।

এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে বরিশালের সচেতন নাগরিক সমাজের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা।

“জনগণের শক্তিতেই পরিবর্তন সম্ভব”—এই বিশ্বাসেই এগিয়ে চলবে এই প্রতিবাদ বলে জানান মহিউদ্দিন রনি।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?