শিরোনামঃ

সামাজিক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দেবে তরুণরা,বোরহানউদ্দিনে সুশীলনের দুইদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ


নিজস্ব প্রতিবেদক,ভোলা:

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা, সাইবার নিরাপত্তা ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে তরুণদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ভোলার বরহানউদ্দিনে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের উদ্যোগে এবং ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত ‘মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীর কল্যাণে সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন প্রোগ্রাম’-এর আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

১১ ও ১২ অক্টোবর, ২০২৬ (রবি ও সোমবার) বোরহানউদ্দিন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে কিশোর-কিশোরী ক্লাব ও কমিউনিটি হাবের সদস্য, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং স্থানীয় যুব ও পিয়ার লিডাররা অংশ নেন।

প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের নেতৃত্বের দক্ষতা, জীবনদক্ষতা এবং সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন বিষয়ে জ্ঞান বাড়ানো, যাতে তাঁরা নিজেদের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন।


দুই দিনের প্রশিক্ষণে সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন, কমিউনিটি এনগেজমেন্ট, সামাজিক জবাবদিহিতা, নেতৃত্বের বিকাশ, কার্যকর যোগাযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমস্যা সমাধানের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি কৈশোরকালের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়।


প্রশিক্ষণে ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সুশীলনের ভোলা জেলার সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন (SBC) প্রোগ্রামের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মোঃ সজীব রহমান, ট্রেনিং অ্যান্ড মনিটরিং অফিসার মারুফা সুলতানা এবং প্রজেক্ট অফিসার ইয়াসমিন জাহান। তাঁরা বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিতে বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন। দলীয় আলোচনা, প্রশ্নোত্তর, পরিস্থিতিভিত্তিক অনুশীলন ও ব্যবহারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়।


অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক সেশনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, সাইবারবুলিং ও অনলাইন হয়রানি মোকাবিলা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে কিশোর-কিশোরীদের নিরাপদ অনলাইন আচরণ চর্চা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


প্রশিক্ষণের উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল আগামী তিন মাসের জন্য ত্রৈমাসিক কর্মপরিকল্পনা (Quarterly Action Plan) প্রণয়ন। দলীয় কাজের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকায় কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা তৈরি করেন। এসব পরিকল্পনায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধ, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ইতিবাচক আচরণে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়গুলো স্থান পায়।

প্রশিক্ষণে তরুণদের কেবল সচেতনতামূলক বার্তার শ্রোতা হিসেবে নয়, বরং পরিবর্তনের সক্রিয় প্রতিনিধি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়। পিয়ার লিডারদের নিজ নিজ এলাকায় সহপাঠী ও সমবয়সীদের সঙ্গে অর্জিত জ্ঞান ভাগ করে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা ব্যক্তিগত জীবনে প্রয়োগের পাশাপাশি বন্ধু, পরিবার ও কমিউনিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণে অর্জিত দক্ষতা ও প্রণীত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা, প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি নিশ্চিত, গর্ভবতী মায়েদের  স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ ও ইতিবাচক জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁদের নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?