শিরোনামঃ

কেশবপুরে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত।



রুস্তম ফারাজী, কেশবপুর।


“শিশুবিবাহ আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়”—এই সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ স্লোগানকে সামনে রেখে যশোরের কেশবপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে কেশবপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য কন্যাশিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীশিক্ষার প্রসার এবং সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে মেয়েদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মোছা. মুসলিমা আক্তার। এরপর পবিত্র গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা এগিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুপালী রানী। তিনি কন্যাশিশুর সুরক্ষা, বিকাশ এবং তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রচলিত আইনের বিধান তুলে ধরে বলেন, আইন অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর। এই বয়সের আগে কোনোভাবেই বিয়ে দেওয়া যাবে না। তিনি বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কন্যাশিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিজেদের যোগ্যতা ও প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন কেশবপুর পৌর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. জাকির হোসেন এবং কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক।

বক্তারা বলেন, কন্যাশিশুরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়া এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। বাল্যবিবাহ একটি কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাভাবিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই এ বিষয়ে পরিবার ও সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তারা আরও বলেন, কন্যাশিশুদের প্রতি বৈষম্য দূর করে তাদের আত্মবিশ্বাসী, স্বাবলম্বী ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মেয়েদের জন্য শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। যথাযথ পরিচর্যা ও সহায়ক পরিবেশ পেলে কন্যাশিশুরাও দেশের উন্নয়ন এবং বিশ্বপরিসরে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবে। জাতীয় কন্যা শিশু দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এ ধরনের আয়োজন কন্যাশিশুর অধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। কন্যাশিশুর নিরাপদ শৈশব, মানসম্মত শিক্ষা, সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে বৈষম্যহীন সমাজ। তাই বাল্যবিবাহকে ‘না’ বলে প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্নপূরণের পথ সুগম করার আহ্বানই ছিল জাতীয় কন্যা শিশু দিবসের মূল প্রতিপাদ্য।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?