- প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৪৫ পিএম
রংপুরে স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত
রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ছালাপাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক মো. রেয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এমন অভিযোগে স্থানীয়দের বিক্ষোভ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করার ঘটনার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে সহকারী শিক্ষক মো. রেয়াজুল ইসলাম যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ছাত্রীর অভিভাবক বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগমকে জানান। অভিযোগ পাওয়ার পরও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এমন অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই জেরে ২ সেপ্টেম্বর স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও অবরুদ্ধ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
স্থানীয় বাসিন্দা রনি বলেন, শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শিক্ষা বিভাগের অন্যতম দায়িত্ব। কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করলে তা মেনে নেওয়া যায় না।
লিমন বলেন, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাছে অভিভাবকের মতো। তাঁদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি ধামাচাপা না দিয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয় মাহাতাব বলেন, আগেও একই ধরনের অভিযোগ থেকে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত। শুধু এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি করে দিলে সমস্যার সমাধান হয় না।
অভিযোগের বিষয়টি গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, রংপুরকে জানান। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, রংপুরের ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ছালাপাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রেয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ‘ইধফ ঃড়ঁপয’ করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণ বিক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্টদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী মো. রেয়াজুল ইসলামকে ২ সেপ্টেম্বর থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা প্রাপ্য হবেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. রেয়াজুল ইসলামের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি আজ বসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষক ছুটি নিয়ে চলে গেছেন। পরে স্থানীয়রা আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং গালিগালাজ করেন।
গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে গেলে আমাদেরও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের পর অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই বিভাগের আরো খবর
-
ব্যাচেলর অব মেডিসিন অ্যান্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি (এমবিবিএস) পরীক্ষার ফলাফলে ১ম ব্যাচেই প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে বরিশাল বিভাগে প্রতিষ্ঠিত প্রথম...
-
নারীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা, আইনি অধিকার, নির্যাতনের শিকার হলে করণীয় এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নারীর আদালত’।বৃহস্পতিবার...
-
জাতীয় সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের...
-
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে অভিযান চালিয়ে ১৪ কেজি গাঁজা ও মাইক্রোবাসসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র্যাব-৬।বুধবার (০২...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!