শিরোনামঃ

একটি রাস্তা কিছু ইট দিয়ে সংস্কার করলেই নেতৃত্বের যোগ্যতা প্রমাণ হয় না”—শিমুল শিকদার

নির্বাচন এলেই কি শুরু হয় উন্নয়নের হঠাৎ জোয়ার? বছরের পর বছর মানুষের দুর্ভোগের কথা ভুলে থেকে ভোটের সময় রাস্থা সংস্কার, উদ্বোধন আর প্রচারণার ব্যস্ততা—এসব নিয়েই এখন সরব রহমতপুর ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গন।

আসন্ন রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে উঠছে প্রশ্ন—উন্নয়ন কি সত্যিই জনগণের প্রয়োজন থেকে হচ্ছে, নাকি ভোটের সময় দৃশ্যমান কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে?

এই প্রশ্নের মধ্যেই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান শিমুল শিকদার দিয়েছেন কঠোর রাজনৈতিক বার্তা।

তার স্পষ্ট বক্তব্য—“উন্নয়ন কোনো প্রদর্শনীর বিষয় নয়। শুধু একটি রাস্তার সংস্কার কাজ করলেই নেতৃত্বের যোগ্যতা প্রমাণ হয় না।”

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রহমতপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মানিককাঠি মহিলা মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নির্দেশনায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে নিজ অর্থায়নে ইটের সলিং রাস্তার নির্মাণকাজের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শিমুল শিকদার বলেন, “একটি ইউনিয়ন পরিচালনার জন্য প্রয়োজন শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, সততা, পরিকল্পনা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা। মানুষ এখন অনেক সচেতন। সাময়িক প্রচারণা আর লোক দেখানো কর্মকাণ্ড দিয়ে দীর্ঘদিন জনগণকে বিভ্রান্ত করে রাখা সম্ভব নয়।”

তার বক্তব্যে পরিষ্কার—এবার রহমতপুরের ভোটের মাঠে শুধু প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি কিংবা নির্বাচনের আগে দৃশ্যমান কিছু উন্নয়নমূলক কাজ যথেষ্ট হবে না।

তিনি বলেন, “জনগণ দেখতে চায়—কে তাদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিল, কে মানুষের সমস্যা বুঝেছে এবং কে সত্যিকার অর্থে ইউনিয়নের দায়িত্ব নেওয়ার যোগ্য।”

রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনা—এবার কি রহমতপুর বাসী শুধু রাস্তা দেখবে, নাকি নেতৃত্বের যোগ্যতাও বিচার করবে?

 রাস্তা সংস্কার  অবশ্যই মানুষের প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—শুধু কিছু দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ কি একটি ইউনিয়নের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রমাণ?

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রহমতপুরের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সামনে রেখেই ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে হবে।

শিমুল শিকদার বলেন, “আমি উন্নয়নের বিরুদ্ধে নই। আমি টেকসই, পরিকল্পিত এবং জবাবদিহিমূলক উন্নয়নের পক্ষে। জনগণের টাকায় জনগণের উন্নয়ন হবে এবং সেখানে স্বচ্ছতা থাকতে হবে। উন্নয়ন কোনো ব্যক্তির প্রচারণার হাতিয়ার হতে পারে না।”

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?